GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / ইরান হামলা সুরক্ষা প্রশ্নে ট্রাম্পের চাপ

ইরান হামলা সুরক্ষা প্রশ্নে ট্রাম্পের চাপ

পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রসঙ্গ

ইসরায়েলকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা করা—এই লক্ষ্যকে ঘিরে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার সীমা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পেন্টাগন-সম্পর্কিত এক উচ্চপর্যায়ের সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, ইউরোপে মোতায়েন বনাম ইসরায়েল সুরক্ষা—একই সময়ে দুই কাজ চালাতে পর্যাপ্ত সম্পদ নেই। এতে ট্রাম্পের ইরান নীতির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন আরও ধারালো হচ্ছে।

ইসরায়েল বনাম যুক্তরাষ্ট্র—দুটি লক্ষ্যেই চাপ

পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রসঙ্গ

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও ডন-এ প্রকাশিত তথ্যমতে, ইউরোপে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ পেন্টাগনে সতর্কবার্তা পাঠান। সেখানে তিনি জানান, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর আরও একটি ডেস্ট্রয়ার না পাঠালে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার মধ্যে একটি বেছে নিতে হতে পারে।

পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ডেস্ট্রয়ার কতটা প্রস্তুত

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পেনভিত্তিক মার্কিন নৌবাহিনীর পাঁচটি ডেস্ট্রয়ার পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং এগুলো ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষায় সহায়তা করছে। চলতি বছরের শেষ দিকে বহরে আরও একটি ডেস্ট্রয়ার যোগ হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংঘাত দীর্ঘ হলে রসদ ও রক্ষণাবেক্ষণের চাপ আরও বাড়ে।

সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় সম্পদ-চাপ

গ্রিনকেভিচের বার্তার ইঙ্গিত, ইরান-সম্পর্কিত সংঘাত সময়ের সঙ্গে টেনে নেওয়ায় এ অঞ্চলে মার্কিন নৌমোতায়েনের সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। এতে ডেস্ট্রয়ারগুলোতে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমার পাশাপাশি জাহাজগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লে ভ্রমণ, কর্মসংস্থান এবং দৈনন্দিন জীবন—সবখানেই প্রভাব পড়ে।

ট্রাম্পের ইরান লক্ষ্যবস্তু হামলার সম্ভাবনা

এদিকে অ্যাক্সিওস জানায়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন ট্রাম্প। প্রতিবেদনে বলা হয়, এতে ইসরায়েলি বাহিনী যুক্ত হতে পারে—তবে চূড়ান্ত নির্দেশ এখনো দেননি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কথাও প্রসঙ্গ হিসেবে এসেছে। ইঙ্গিতটি পরিষ্কার—ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে গিয়ে সংঘাত আরও বড় রূপ নিতে পারে। আর তা হলে একই সঙ্গে ইসরায়েলি সুরক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তার ভার সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে।

এবার সিদ্ধান্ত কেন কঠিন

মূল দ্বিধা হলো, ফের হামলা শুরু হলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় ইসরায়েলকে সহায়তা করতে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে হবে। আবার একই সময়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা-চাহিদাও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ফলে ট্রাম্পের পরিকল্পনা যতই দ্রুত হোক, বাস্তবায়নের সামরিক সক্ষমতা নিয়েই টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে।

প্রবাসীদের জন্য প্রশ্ন

  • মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে আমাদের কর্মস্থলের নিরাপত্তা পরিকল্পনা কীভাবে বদলাবে?
  • ইরান হামলা বা পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে যাতায়াত ও খরচে প্রভাব পড়বে কি?
  • মার্কিন সামরিক জোগান কমে গেলে ইসরায়েল-কেন্দ্রিক প্রতিরক্ষা কতটা টেকে?

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons