GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / ইরানের দৃষ্টিতে সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক প্রতিরক্ষা চুক্তি

ইরানের দৃষ্টিতে সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক প্রতিরক্ষা চুক্তি

মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রতীকধর্মী ছবি

সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্কের ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের পর ইরান যে বার্তায় এগিয়েছে, সেটাই এখন সবচেয়ে বেশি মনোযোগ কাড়ছে। ইরান সরাসরি চুক্তিটি নিয়ে মন্তব্য না করলেও ‘মুসলিম ঐক্য’ ও ‘বাইরের ক্ষতিকর শক্তির প্রভাব কমা’র প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে এনেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উপসাগরের নিরাপত্তাচিত্র বদলালে সেখানে কর্মসংস্থান, যাতায়াত ও দৈনন্দিন লেনদেন—সবকিছুতেই প্রভাব পড়ে।

মক্কায় সই করা ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা কাঠামো

মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রতীকধর্মী ছবি

চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর বাইরের কোনো পক্ষ সশস্ত্র হামলা চালালে সেটিকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। এভাবে নতুন একটি নিরাপত্তাকাঠামো দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে যখন ইরান-সম্পর্কিত উত্তেজনা কমিয়ে আনার চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনো টানাপোড়েন পার করে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

ইরানের বার্তা—সংযত, তবে ইঙ্গিত আছে

চুক্তি সই হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তুরস্ক–সৌদি–পাকিস্তানকে ঘিরে কোনো সরাসরি দাবি তুলেননি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বরং তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুসলিমদের ঐক্য এবং বাইরের ক্ষতিকর শক্তিগুলোর যেকোনো চ্যালেঞ্জ ‘সরাসরি মোকাবিলার’ কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি ‘নিজেদের ওপর নির্ভর করার’ এবং প্রকৃত ভ্রাতৃত্ব গ্রহণের বার্তাও দেন।

চুক্তি নিয়ে ইরানের সরাসরি টার্গেট না নেওয়ার কথাও আছে

এদিকে সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্ক জোর দিয়ে বলছে, চুক্তিতে কোনো নির্দিষ্ট হুমকির উল্লেখ নেই এবং সেটি ইরান বা কোনো দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। পাশাপাশি অন্য দেশগুলোর সঙ্গে তাদের বিদ্যমান চুক্তি এই চুক্তির কারণে বাতিল বা প্রতিস্থাপিত হবে না বলেও তারা স্পষ্ট করেছে। ফলে, ইরানের প্রতিক্রিয়াও তুলনামূলকভাবে সংযতই থেকেছে।

তবু কেন ইরান উদ্বিগ্ন হতে পারে

ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি–সম্পর্কিত গবেষণায় দেখা যায়, চুক্তির সময়টা ইরানের জন্য সহজ নয়। যুদ্ধ-সম্পর্কিত উত্তেজনা উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার পর নৌ চলাচলও ব্যাহত হয়েছে—এমন পরিস্থিতিতে নতুন নিরাপত্তা জোট সামনে এলে ইরান স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে হিসাব করে। গবেষক পর্যায়ে আলোচনায় উঠে এসেছে—কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের পটভূমি মিলিয়ে সময়টা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সৌদি আরবের ইয়েমেন এবং প্রতিবেশী ইরাক ঘিরে বিদ্যমান বাস্তবতাও সেখানে জড়িত।

প্রবাসীদের জন্য এর অর্থ কী

উপসাগরে নিরাপত্তা কাঠামো বদলালে কর্মীদের সুরক্ষা, যাতায়াতের ঝুঁকি এবং বাজারের স্থিতি—এসবের ওপর পরোক্ষ প্রভাব পড়ে। তাই সৌদি আরব, আশপাশের দেশ ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে যারা কাজ করেন, তাদের জন্য এমন চুক্তির রাজনৈতিক বার্তা বোঝা বাস্তব প্রয়োজনের অংশ।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

ইরান কি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি সরাসরি নাকচ করেছে?
না, প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সংযত। তবে ‘মুসলিম ঐক্য’ ও বাইরের প্রভাব কমার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

চুক্তির মূল শর্ত কী?
তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর বাইরের সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে ধরা হবে।

এটা প্রবাসীদের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে?
হ্যাঁ, উপসাগরের নিরাপত্তা ও স্থিতি বদলালে কর্মপরিবেশ ও যাতায়াতে প্রভাব পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons