জুলাইয়ের চেতনা যেন হারিয়ে না যায়—এ আহ্বান জানালেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে আয়োজিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা-প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ দেওয়াই হোক আজকের অঙ্গীকার।
জুলাইকে হৃদয়ে ধারণের বার্তা

বুধবার (৫ আগস্ট) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের অক্লান্ত সংগ্রাম ছিল রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। তিনি বলেন, সেই আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছে এবং এটি জাতির ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়, যা মানুষ গর্বের সঙ্গে মনে রাখবে।
আহতদের ন্যায়বিচারের কথা
অনুষ্ঠানে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, দুপুরে তিনি একটি হৃদয়বিদারক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন—এক মা তার অন্ধ ছেলেকে হাত ধরে মঞ্চে নিয়ে এসেছেন। তিনি জানান, গণঅভ্যুত্থানে ওই তরুণ দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। মায়ের কষ্ট, অভাব-অভিযোগ ও বেদনাও তিনি সবার সামনে উঠে আসতে দেখেছেন বলে জানান।
এই প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেন, জুলাইয়ে যারা জীবন দিয়েছেন বা অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জাতীয় সংসদ ও বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তিনি বলেন, এটি কোনো স্বল্পমেয়াদি কাজ নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অঙ্গীকার।
৫ আগস্টকে গৌরব ও বিজয়ের দিন বললেন স্পিকার
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, জাতীয় জীবনে ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর যেমন গৌরব ও বিজয়ের দিন, তেমনি ৫ আগস্টও গৌরব ও বিজয়ের দিন হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর অর্জন ছিল বিদেশি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করার মাধ্যমে; আর ৫ আগস্ট অর্জন হয়েছে দেশীয় ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাভূত করার পথ ধরে।
স্বাধীনতার পর গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে না পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ফলে জনগণ বহুবার প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন জাতি সেই পথে আর না হাঁটে, সে জন্য ধৈর্য, সহনশীলতা এবং পরিশীলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সংস্কার ও গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনে মনোজগতের পরিবর্তন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রকৃত সংস্কার মানুষের মনোজগতে হতে হবে। তিনি জানান, মনোজগতের বদল না হলে শুধু আইন বা প্রতিষ্ঠান বদলিয়ে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব হয় না। এ সংস্কারের সূচনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধান থেকে রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার ও মেরামতের শুরু হওয়া উচিত—যা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ফসল। তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রবাসী পাঠকের জন্য তাৎপর্য
প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের জন্যও এই বার্তা গুরুত্বপূর্ণ। জুলাইয়ের চেতনা টিকে থাকলে রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি, ন্যায়বিচার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় স্থিতি আসে—যা দেশে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন, পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি সুযোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
সংক্ষেপে কয়েকটি প্রশ্ন
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি কী বিষয়ে জোর দেন? জুলাইয়ের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার এবং আহতদের ন্যায়বিচারের বিষয়টি।
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কার দায়িত্ব বলে বলা হয়? জাতীয় সংসদ ও বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
৫ আগস্টকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হয়? গৌরব ও বিজয়ের দিন হিসেবে ইতিহাসে স্থান দেওয়ার কথা বলা হয়।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









