রাজবাড়ীর খানখানাপুর রেলক্রসিংয়ে রোববার রাত পৌনে ৯টার দিকে ঘটে লেভেল ক্রসিং দুর্ঘটনা। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ওই স্থানে ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া কয়েকটি বগি যানবাহনের সঙ্গে ধাক্কা খায়।
তেলবাহী ট্রেনের বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে সংঘর্ষ

ফরিদপুর ধুলদী পাওয়ার প্লান্ট থেকে তেলবাহী ট্রেন খুলনার উদ্দেশে যাচ্ছিল। প্রথমে ইঞ্জিনসহ একাধিক বগি নিয়ে ট্রেনটি রাজবাড়ীর খানখানাপুর রেললাইন ক্রস করছিল।
পরে গেটম্যান রেললাইনের বাঁয়ারিয়ার উঠিয়ে দেওয়ার পরও কিছু সময়ের মধ্যে মূল ট্রেন থেকে কয়েকটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে আসে। এরপর সেগুলো লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় মাহেন্দ্রা, অটোরিকশা ও একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
মাহেন্দ্রা দূরে ছিটকে, বাস-অটোরিকশা ক্ষতিগ্রস্ত
ঘটনার পর মাহেন্দ্রাটি প্রায় ১০০ গজ দূরে চলে যায় মালবাহী ট্রেনের বিচ্ছিন্ন বগিগুলোর ধাক্কায়। অটোরিকশাটিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া বাসটি রেললাইনে ধাক্কা লেগে থেমে যায় বলে জানা গেছে।
হাসপাতালে নিহত ২, আহত ৮ জনকে নেওয়া হয় হাসপাতালে
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় ৮ জনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মনোয়ার পাটওয়ারী ও চিকিত্সাধীন অবস্থায় আব্দুল মালেক মারা যান।
আরও আহতদের চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে বাসটি সরিয়ে নিলে স্বাভাবিক যান চলাচল চালু হয়।
গেটকিপারের শেষ মুহূর্তের চেষ্টা ও তদন্ত
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুজনের মৃত্যু হয়।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলেছে, ওই মালবাহী ট্রেনে গার্ড ব্রেকসহ বিটি হিসেবে ২৬টি বগি ছিল। চলন্ত অবস্থায় ট্রেনের মাঝের দিক থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া বিষয়টি সামনে আসে।
রেলক্রসিংয়ে ট্রেন পার হওয়ার সময় গেটকিপার শেষ বারের মতো গেট খুলে দিলে মহাসড়কেও যান চলাচলের চাপ ছিল। দূর থেকে কিছু আসতে দেখে গেট বন্ধ করার চেষ্টা করা হলেও পেরে ওঠেনি—ততক্ষণে দুর্ঘটনা ঘটে যায়।
ঘটনাটি তদন্তে সংশ্লিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্ত শেষে কারণ জানানো হবে।
প্রশ্ন–উত্তর
কোন এলাকায় দুর্ঘটনাটি হয়েছে?
রাজবাড়ীর খানখানাপুর রেলক্রসিং এলাকায়।
কারা মারা গেছেন?
মনোয়ার পাটওয়ারী এবং আব্দুল মালেক।
কোন যানগুলো ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?
মাহেন্দ্রা, অটোরিকশা এবং যাত্রীবাহী বাস।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









