মক্কায় সই হয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে অন্য দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবেই ধরা হবে—এটাই এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় বার্তা।
মক্কায় সই, সম্মিলিত প্রতিরোধ জোরদার

মধ্যপ্রাচ্যে টানাপোড়েনের মধ্যেই আজ শুক্রবার চুক্তিটি স্বাক্ষর করা হয়। তিন দেশ যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, আগ্রাসন ঠেকাতে সম্মিলিত প্রতিরোধের সক্ষমতা জোরদার করাই লক্ষ্য।
যেকোনো হামলা মানেই ‘সবার ওপর হামলা’
চুক্তির ভাষায় বলা হয়েছে, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে সংকটের মুহূর্তে প্রতিক্রিয়ার সমন্বয় আরও দৃঢ় করার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো—লক্ষ্য নির্দিষ্ট নয়
চুক্তির ধরন প্রসঙ্গে তুরস্কের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এখানে সম্মিলিত প্রতিরক্ষার ধারা আছে এবং এটি পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক। আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহায়তার অঙ্গীকার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
এ ছাড়া, এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা পক্ষকে লক্ষ্য করে করা হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। আঞ্চলিক অন্যান্য দেশ এতে যুক্ত হতে পারে, তবে এটি বিদ্যমান কোনো দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় চুক্তি বাতিল করে বা প্রতিস্থাপন করে না।
উপসাগরীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ইরানের অবস্থান উদ্বেগের জায়গা
চুক্তিদাতা তিন দেশই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর ওপর চলমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকে ইরান ও তার মিত্রদের হামলার ধারাবাহিকতা, পাশাপাশি জ্বালানি রপ্তানির পথ অবরুদ্ধ করার চেষ্টার কথাও এসেছে বিবৃতিতে।
তিন দেশ বিশেষভাবে ইসরায়েল ও ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক অবস্থান নিয়েও উদ্বিগ্ন বলে জানানো হয়। একই সময়ে তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও আঞ্চলিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে—এ কথাও আলোচনায় এসেছে।
প্রবাসীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
মধ্যপ্রাচ্যে কর্মী ও ব্যবসা—দুটো ক্ষেত্রেই নিরাপত্তার প্রশ্ন সরাসরি প্রভাব ফেলে। যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি মানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রতিক্রিয়ার সমন্বয় জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা। ফলে অঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা কমলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দৈনন্দিন জীবনও তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক থাকে।
প্রশ্নোত্তর
চুক্তিটি কোথায় সই হয়েছে?
মক্কায় চুক্তিটি সই করা হয়।
এক দেশের হামলা হলে কী হবে?
চুক্তি অনুযায়ী সেটিকে সবার ওপর হামলা হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
এটি কি প্রতিরক্ষামূলক?
প্রতিরক্ষামূলক ধারা রয়েছে—আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহায়তার অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: Reuters









