ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন পটুয়াখালীর আওয়ামী লীগ নেতা মনির খান। কারাগারে থাকা অবস্থায় স্ট্রোকের পর দীর্ঘদিন নিবিড় পরিচর্যায় ছিলেন তিনি। হাতকড়া পরা অবস্থার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরও তার শারীরিক অবস্থার আর উন্নতি হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
আইসিইউতেই শেষ নিশ্বাস

বুধবার বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনির খান মারা যান। প্রায় দুই মাস ধরে তিনি সেখানে নিবিড় পরিচর্যায় ছিলেন।
স্ট্রোকের পর হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসা
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, কারাগারে থাকার সময় গত ৯ জুন মনির খানের স্ট্রোক হয়। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৪ জুন আইসিইউতে নেওয়া হয়, পরে লাইফ সাপোর্টেও রাখা হয়।
হাতকড়ার ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল
আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হাতে হাতকড়া পরানো একটি ছবিও ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়ে বিষয়টি। পরিবারের দাবি, পরে হাতকড়া খুলে দেওয়া হলেও তার অবস্থা আর স্থিতিশীল হয়নি।
কারাবন্দি থাকার পটভূমি
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে রাজধানীর একটি এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ছিল। জামিন পেলেও কিছু মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়, ফলে তিনি কারাগারেই ছিলেন—এই সময়েই স্ট্রোকের ঘটনা ঘটে।
জানাজা ও দাফন
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। এরপর পটুয়াখালী সদর উপজেলা মাঠে জানাজা শেষে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
প্রবাসীদের জন্য তাৎপর্য: দেশে আইন-প্রশাসন ও নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ নতুন করে সামনে এসেছে। একই সঙ্গে অসুস্থ বন্দির চিকিৎসা ও মানবিক বিষয়গুলোও বাস্তব প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়—যার প্রভাব পড়ে পরিবার, সমাজ এবং সামগ্রিক আস্থায়।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
মনির খান কোথায় মারা যান?
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে।
তার অসুস্থতা কী ছিল?
কারাগারে থাকার সময় স্ট্রোক হয়।
হাতকড়ার ছবি নিয়ে কী বলা হয়?
পরিবারের দাবি, পরে হাতকড়া খুলে দেওয়া হলেও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









