GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / শিক্ষা ও ক্যারিয়ার / শিক্ষা / ময়মনসিংহে এসএসসিতে শূন্য পাস, অনিয়ম তদন্ত

ময়মনসিংহে এসএসসিতে শূন্য পাস, অনিয়ম তদন্ত

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় শূন্য পাস, তদন্তের বিষয়টি চিত্রায়িত ভাবনা

ময়মনসিংহে এসএসসি পরীক্ষায় চারটি প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করতে পারেনি। দুই প্রতিষ্ঠালিন ইস্যু—শিক্ষক বেশি থাকা সত্ত্বেও শূন্য পাস এবং ভর্তি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা অবস্থায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার—ঘটনা ঘিরে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী থাকলেও এসএসসি ফল শূন্য

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় শূন্য পাস, তদন্তের বিষয়টি চিত্রায়িত ভাবনা

ফুলবাড়িয়ার শহীদ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুল থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় পাঁচ শিক্ষার্থী। তাদের পাঠদানে শিক্ষক ছিলেন সাতজন। কিন্তু পাঁচজনের একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। বিদ্যালয়টি এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে প্রায় নব্বই-আট শিক্ষার্থীর পড়াশোনা চলছে। শিক্ষকদের মধ্যে গণিতের শিক্ষক প্রবাসে থাকায় পদটি শূন্য—এমন তথ্যও উঠে এসেছে।

উপস্থিতি, মোবাইল আসক্তি ও চাপের অভাবকে দায়

প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসত না। অভিভাবক সমাবেশ করেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া মেলেনি। তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে আসক্তিও ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। এ ছাড়া শিক্ষকদের দায়ও আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শিক্ষকদের বেতন দিতে না পারায় প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি বলেও জানিয়েছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মাধ্যমিক শাখায় ভর্তি বন্ধ, তবু পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগ

অন্যদিকে মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয় থেকেও চলতি বছর এসএসসিতে অংশ নেয় চার শিক্ষার্থী। ২০২২ সাল থেকেই ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমিক শাখায় কার্যক্রম ও শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ রয়েছে। তবুও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চারজনই অকৃতকার্য হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে বলা হচ্ছে, এমএন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে একটি অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিজেদের নামে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছিল মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়।

বোর্ডের সিদ্ধান্ত: দায় কলেজ কর্তৃপক্ষের

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদত উল্লাহ বলেন, বোর্ডের আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ফরম পূরণ করা হয়েছে। ফলে এ ঘটনার দায়ভার কলেজ কর্তৃপক্ষের বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নিজস্ব শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও অস্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানো স্পষ্ট অনিয়ম এবং তথ্য গোপনের শামিল। প্রতিষ্ঠানটিকে তলব করা হবে; সঠিক জবাব দিতে না পারলে স্বীকৃতি বাতিলের সুপারিশ করা হতে পারে বলে জানান তিনি।

এদিকে শূন্য পাস প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, শতভাগ ফেল হওয়া প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ঘাটতি বা পরীক্ষা দেওয়ার পদ্ধতিগত দুর্বলতা খতিয়ে দেখার কথা ভাবা হচ্ছে। প্রবাসী অভিভাবকদের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ—কারও সন্তান স্কুলে নিয়মিত না থাকলে, বা ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্য ঠিক না থাকলে ভবিষ্যৎ ক্ষতির ঝুঁকি থাকে।

প্রশ্নোত্তর

এসএসসি ফল শূন্য হওয়া প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কত ছিল?
ফুলবাড়িয়ার শহীদ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুল থেকে পাঁচ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল—কিন্তু কেউ পাস করতে পারেনি।

মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ে মাধ্যমিক শাখায় কী অবস্থা ছিল?
২০২২ সাল থেকেই কার্যক্রম ও শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ ছিল বলে বলা হচ্ছে। তবুও চার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন।

বোর্ড কী ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে?
প্রতিষ্ঠানগুলোকে তলব করে জবাব নেওয়া হবে এবং অনিয়ম প্রমাণ হলে স্বীকৃতি বাতিলের সুপারিশ পর্যন্ত যেতে পারে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons