GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / রাজনীতি / নতুন মুখ এলেও পুরোনো সংস্কৃতি, বদল কোথায়

নতুন মুখ এলেও পুরোনো সংস্কৃতি, বদল কোথায়

বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও তরুণদের অংশগ্রহণের প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটি হলো—নতুন মুখ এলে কি রাজনীতি সত্যিই বদলায়, নাকি শুধু বদলায় পোশাক। কারণ মানুষ চায় পরিবর্তন; আর সেই পরিবর্তনের পরীক্ষার জায়গা আসলে প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি।

আশার কেন্দ্র বদলানোর কথা

বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও তরুণদের অংশগ্রহণের প্রতীকী ছবি

দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা, ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন, দলীয় সংঘাত, প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল স্থানীয় সরকার এবং নাগরিক আস্থার সংকট—সব মিলিয়ে মানুষ বারবার বলছে, পরিবর্তন চাই। নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান, নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ এবং নতুন মুখের আবির্ভাব সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

কিন্তু নতুন মুখ যদি পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেয়, তাহলে প্রত্যাশা দ্রুত হতাশায় ঢুকে পড়ে।

ব্যক্তি নয়, সংকটটা প্রতিষ্ঠানে

বাংলাদেশের বড় সংকট ব্যক্তি নয়; সংকট হলো প্রতিষ্ঠান এবং কাজের ভেতরের নিয়ম। এখানে দল অনেক সময় রাষ্ট্রের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে। নেতা দলের চেয়েও বেশি প্রভাবশালী হলে নীতির জায়গা দখল করে নেয় আনুগত্য। ফলে নতুন কেউ এলেও তাকে পুরোনো কাঠামো টেনে নেয়।

যদি প্রশ্ন করা হয়, তাকে বিদ্রোহী বলা হয়। ভিন্নমত প্রকাশ করলে শৃঙ্খলাভঙ্গকারী ঠেকে যায়। নেতৃত্বের সমালোচনাকে দলবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা চলতেই থাকে। এই ধারাই রাজনীতির চরিত্র বদলাতে দেয় না।

নতুন মানদণ্ড বানানোর সুযোগ আছে

তবে সুযোগও বাস্তব। নতুন রাজনৈতিক শক্তি চাইলে রাজনীতিতে নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে পারে—যেখানে দলের ভেতরে নিয়মিত নেতৃত্ব নির্বাচন, প্রার্থী বাছাইয়ে স্বচ্ছতা, নারীর ও তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণ, দলীয় অর্থের প্রকাশ্য হিসাব, নীতিনির্ভর কর্মসূচি, আর ভিন্নমতের প্রতি সম্মান—সবই কার্যকর থাকবে।

এগুলো ঠিকমতো চললে ‘নতুন রাজনীতি’ কথার বিষয় থাকবে না; বাস্তবে রূপ নেবে। আর তখনই নতুন মুখ পুরোনো সংস্কৃতির ভেতরে হারিয়ে যাবে না।

তরুণ হওয়া মানেই নতুন চিন্তা নয়

নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ ইতিবাচক—তারা প্রযুক্তি বোঝেন, বিশ্বরাজনীতি সম্পর্কে সচেতন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় এবং ক্ষমতার পুরোনো কাঠামোকে প্রশ্ন করতে অভ্যস্ত। অনেকেই নাগরিক অধিকার, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি, শিক্ষা, পরিবেশ ও সুশাসনের প্রশ্ন তোলেন।

তবে বয়স কম হওয়া বা নতুনত্ব থাকলেই রাজনীতি বদলে যায় না। যদি নতুন নেতা পুরোনো নেতার মতোই ব্যক্তিপূজায় অভ্যস্ত হন, বিরোধী মত সহ্য না করেন, দলের ভেতরে নির্বাচন না দেন, ক্ষমতায় গিয়ে আত্মীয়স্বজন বা ঘনিষ্ঠদের প্রাধান্য দেন—তাহলে রাজনীতি পুরোনোই থেকে যায়।

দল বদল, সংস্কৃতি বদল না হলে লাভ নেই

রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়ই পরিবর্তনের কথা বলে। কিন্তু দলের ভেতরে সিদ্ধান্ত চলে অল্প কয়েকজনের হাতে। স্বচ্ছতার কথা বলা হলেও দলীয় অর্থায়ন, প্রার্থী মনোনয়ন ও নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া অনেক সময় অস্বচ্ছই থাকে। জবাবদিহির কথাও শোনা যায়, কিন্তু সমালোচনার ক্ষেত্রে নৈতিক পার্থক্য তৈরি হয়—নিজের দলের সমালোচনা আলাদা গুরুত্ব পায়, ক্ষমতাসীন দলের ক্ষেত্রে আলাদা আচরণ।

তাই নির্বাচনের পর পরিচিত মুখের জায়গায় নতুন মুখ আসা, নতুন স্লোগান শোনা—এসব পরিবর্তনের দৃশ্য। কিন্তু বদলটা আসবে যখন নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি বাস্তবে গড়ে উঠবে।


প্রবাসীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

প্রবাসে থাকা মানুষদের কাছে রাজনীতি মানে দূরের বিষয় নয়। কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, প্রশাসনের নির্ভরযোগ্যতা, দুর্নীতির লাগাম—সবকিছুর শিকড় ভালো শাসনব্যবস্থায়। নতুন মুখ এলে চলবে না; নতুন সংস্কৃতি নিশ্চিত হলে তবেই দৈনন্দিন বাস্তবতা পাল্টানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়।

প্রশ্নোত্তর

নতুন মুখ কি রাজনীতির পরিবর্তন ঘটাতে পারে?
মুখ বদলাতে পারে, কিন্তু পরিবর্তন স্থায়ী হবে যদি রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও প্রতিষ্ঠানগত নিয়মও বদলায়।

রাজনীতিতে বড় সংকট কী?
ব্যক্তির চেয়ে বেশি বড় সমস্যা প্রতিষ্ঠান ও সিদ্ধান্তগ্রহণের সংস্কৃতি—যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দুর্বল।

তরুণ অংশগ্রহণ কেন জরুরি?
তরুণেরা প্রশ্ন করার ক্ষমতা রাখেন, তবে নতুন চিন্তা টিকবে স্বচ্ছ নেতৃত্ব নির্বাচন ও ভিন্নমতের সম্মান থাকলে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons