GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / শিক্ষা ও ক্যারিয়ার / শিক্ষা / প্রেম তুমি হাসানের গল্প প্রবাস ও কলেজ স্মৃতি

প্রেম তুমি হাসানের গল্প প্রবাস ও কলেজ স্মৃতি

প্রবাসজীবনে কলেজ স্মৃতি ও বন্ধুত্বের মুহূর্ত

“অভাব যখন দরজা দিয়ে আসে, প্রেম তখন জানালা দিয়ে পালায়।” কথাটা হাসানের জীবনের সাথেই যেন মিলে যায়। রূঢ় বাস্তবতার চোখ রাঙানিতে তার কল্পনার প্রেম ফিকে হয়ে আসে।

প্রেমের জানালা ফাঁকা হয়ে যাওয়া

প্রবাসজীবনে কলেজ স্মৃতি ও বন্ধুত্বের মুহূর্ত

কর্মজীবন, সংসার—তারপর একসময় সব ছেড়েছুড়ে প্রবাসে থিতু হওয়া। এত কিছুর মাঝখানে প্রেম নিয়ে ভাবার সুযোগও যেন ছিল না।

হাসান বলে, বিদেশে এসে প্রথম দু-তিন বছর সবাই মুগ্ধ হয়ে ভাবে, এখানে প্রাণ আছে, সুন্দর আছে। কিন্তু সপ্তাহখানেক পরই টের পাওয়া যায়—ভেতরটা ফাঁপা। তার ভাষায়, সুন্দর তখনই প্রকৃত সুন্দর যখন পাশে অসুন্দরও বিদ্যমান। ক্ষুধা লাগলে খাবারই সুস্বাদু—এই দর্শনটা যেন তার প্রবাসজীবনেরও ব্যাখ্যা।

প্রবাসে থিতু, মনে আবার প্রশ্ন

প্রবাসের শুরুর ধাক্কা পেরিয়ে জীবন একটু থিতু হলে হাসান নিজেকে যেন ফিরে পায়। তখনই মাথায় ঘোরাফেরা করে প্রশ্নগুলো। তুলনামূলক আলোচনাও জমে ওঠে মনের ভেতর—দেশের জীবন আর বিদেশের জীবনের পার্থক্য নিয়ে।

আর এই তুলনা করতে করতেই তার মনে ভিড় করে কলেজ জীবনের স্মৃতি। যাকে ঘিরে এত টান, সে হয়তো জানেও না। হাসান তখন একরকম অনুভব করতে থাকে, দেশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগটা নতুন করে তৈরি করতেই হবে।

পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে নিখাঁদ যোগাযোগ

তাই শৈশবের খেলার সাথী আজাদকে, প্রাথমিকের সহপাঠি কামাল, গণি আর বড় ভাই বাবলুকে সে আবার খুঁজে পায়। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের সঙ্গেও যোগাযোগ নতুন করে শক্ত হয়।

কিশোর বয়সের সেই স্বপ্নের মানুষটার সাথেও কথা হয়। এখানে কোনো হিসাব নেই, কোনো স্বার্থও নেই—হাসান যাকে বলে, নিখাঁদ বন্ধুত্ব। কথার ফাঁকে সে যেন এক ধাক্কায় কলেজের দিনগুলোতে ফিরে যায়। একরকম বয়সও কমে আসে—ত্রিশ বছর থেকে নেমে ষোলতে।

ইশির পড়াশোনা, স্মৃতির সাথে নতুন সময়

প্রবাসের জীবন বদলালেও স্মৃতির টান ফুরায় না। হাসানের নিজের মেয়েও এখন বাংলাদেশের হিসেবে কলেজে পড়ে। এই মুহূর্তটায় এসে আবার পুরোনো দিনগুলোর ভিড়—কারণ, তার মেয়ে ইশি এ বছর ইয়ার ইলেভেনে উঠেছে। বাংলাদেশে যে ধারা অনুযায়ী ইন্টারমিডিয়েট ফার্স্ট ইয়ার বলা যেত, গ্রাম অঞ্চলে যাকে আইএ পড়তেছে বলেও চেনা হয়—তার মতোই ইশির বর্তমানটা এক ধরনের নতুন অধ্যায়ের শুরু।

অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাক্রমে ইয়ার ওয়ান থেকে ইয়ার সিক্স প্রাথমিক ধাপ, ইয়ার সেভেন থেকে ইয়ার টুয়েলভ মাধ্যমিক ধাপ; এরপর বিশ্ববিদ্যালয় অথবা ভোকেশনাল। হাসান অবশ্য শিক্ষাক্রমের হিসাব নিয়ে টেনে কথা বাড়ায় না। বরং নিজের শহরতলির জীবনের ভেতর থেকে দেখার মতো করে ইশির নতুন ক্লাস-রুটিনটাকে মিলিয়ে নেয় সে।

আর যেদিন ফ্লাশমব বা নতুন ধাঁচের নানা আয়োজনের ভিডিও দেখে সে—এস এস সি, এইচ এস সি, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা সব স্তরের শিক্ষার্থীদের কলকাকলী দেখে—নিজের সময়টা মনে পড়ে। সময়টা বদলাচ্ছে, কিন্তু মানুষ হয়ে ওঠার গল্পটা যেন একই দিকে ঘুরছে।

প্রশ্ন—হাসানের কাছে প্রেম মানে কী

তার কাছে প্রেম মানে শুধু সুন্দর কথা নয়। সে বলে, সে ভালোবাসা বা প্রেম বুঝতে চাইত না। কারণ তার হাই স্কুলের বন্ধুরা প্রেমে পড়ে ছ্যাকা খেয়ে ভুল বুঝে ফেলেছিল।

প্রেম সম্পর্কে তার কঠিন মত—প্রেমিকেরা প্রেমিকাদের পোষা কুকুরের মতো। রাগ হলে লাথি, আবার রাগ ভাঙলে আদর—এই ধারণার মধ্যেই অনেক জুনিয়র সম্পর্ক ভেঙেছে বলে সে মনে করে।

আপনি চাইলে

হাসান যেভাবে দেশ-বিদেশ তুলনা করে, আপনিও কি আপনার জীবনের “কলেজের স্মৃতি” খুঁজতে চান? আর আপনার আশপাশে কি এমন কেউ আছেন, যিনি প্রবাসে গিয়ে নতুন করে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলেছেন?

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons