পুঞ্জীভূত সংকটের উত্তরাধিকার কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক মডেল দরকার—এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর প্রভাব পড়ে কর্মসংস্থান, দামের লাগাম, বিনিয়োগের গতি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতির ওপর।
সংকট কীভাবে জমেছিল

উপদেষ্টা বলেন, এক ধরনের “পারিবারিক হিসাব” থেকে রাষ্ট্রের বাস্তবতাও দেখা যায়। সঞ্চয় শেষ, ঋণ বেড়ে যাওয়া, ব্যবসা-বাণিজ্যের চাপ, কলকারখানা বন্ধ—এসব মিলিয়ে সংকট পুঞ্জীভূত হয়েছিল। তিনি জানান, রাষ্ট্রও ঋণ নিতে নিতে বড় দায়ে জড়িয়ে পড়ে এবং সেখান থেকে বেরোনোর মতো কার্যকর পরিকল্পনা ছিল না।
ব্যর্থতার চিত্র, প্রতিষ্ঠান ভাঙা এবং অসহিষ্ণুতা
তার মতে, পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতির মাধ্যমে একধরনের অলিগার্কিক শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। এর প্রভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করা বা ভেঙে দেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। পাশাপাশি সমাজে অস্বস্তি ও অসহিষ্ণুতাও বেড়েছে—যা অর্থনৈতিক স্থিতি ও সামাজিক সমন্বয়কে দুর্বল করে।
নতুন অর্থনৈতিক মডেল ও লক্ষ্য
তিনি বলেন, ইতিহাসের শিক্ষা নিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারলেই অগ্রযাত্রা এগোয়। স্বাধীনতার মূল মন্ত্র হিসেবে সমতা, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা ও সামাজিক ন্যায্যতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, “জুলাইয়ের মন্ত্র”ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার দিকে। সেই জায়গা থেকেই নতুন একটি মডেল দরকার—যেটা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের সাথে মিল রেখে দাঁড় করাতে হবে।
সরকারের লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়—মানুষের জীবনে স্বস্তি আনা, বিনিয়োগ বাড়ানো, বন্ধ কলকারখানা চালু করা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অর্থনৈতিক সংকট যেহেতু প্রতিটি খাত, প্রতিটি বয়স এবং প্রতিটি পেশায় চাপ ফেলেছে, তাই সবার জন্য “দার্শনিক ভিত্তি” হিসেবে “সবার আগে বাংলাদেশ” এবং গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিশনের কথা বলা হয়।
সামাজিক নিরাপত্তায় ভুল শনাক্তের দাবি
উপদেষ্টা জানান, অতীতে জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল তৈরিতে অর্থ খরচ হলেও শেষ বছরে দারিদ্র্য বেড়েছে। দারিদ্র্য কমাতে ভুলগুলো শনাক্ত করে সমাধানে যাওয়ার কথা বলেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনটি বড় ভুল ছিল—যাদের তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা নয়, তাদের তালিকাভুক্ত হওয়া; যাদের তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা, তারা তালিকাভুক্ত না হওয়া; এবং নির্বাচন পদ্ধতিতে রাজনৈতিক প্রভাব থাকা।
কৃষি ঋণ ও ফ্যামিলি কার্ডে পদক্ষেপ
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কৃষি ঋণ মাফ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যাওয়ার চেষ্টা করার কথা বলেন, যাতে সহায়তা প্রকৃত প্রয়োজনের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
এই বক্তব্যের তাৎপর্য হলো—অর্থনৈতিক মেরামতের পাশাপাশি সামাজিক সহায়তার নকশাও নতুন করে ভাবতে হবে। ফলে দামের চাপ কমা, বিনিয়োগ বাড়া, কর্মসংস্থান সৃষ্টি—এসবের মাধ্যমে প্রবাসী আয়ের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
সংক্ষেপে যেসব প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক
প্রবাসীদের জন্য এ ধরনের অর্থনৈতিক মডেল কেন গুরুত্বপূর্ণ?
দামের স্থিতি, কর্মসংস্থান এবং ব্যবসার গতি—সব কিছুর সঙ্গে প্রবাসী আয়ের পরিবেশ সরাসরি যুক্ত।
সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বদলালে কী লাভ হবে?
যাদের প্রয়োজন, তাদেরই সহায়তা পৌঁছালে দারিদ্র্য কমানোর গতি বাড়ে।
নতুন মডেল বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে?
বাংলাদেশের বাস্তবতায় মিল রেখে বিনিয়োগ, কারখানা সচল ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে সামনে রেখে নীতির সমন্বয়।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









