সীমান্তে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা সাহিদা ফকির এখন সাতক্ষীরায় আশ্রয় নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন—নিজ দেশে ফেরার আকুতি জানালেন তিনি।
‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে পুশ ইন

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া গ্রামে আশ্রয় নেওয়া সাহিদা ফকির বলেন, ভারতীয় পরিচয়পত্রও থাকার পরও তাঁকে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর থানার বিথারি হাকিমপুর এলাকার বাসিন্দা তিনি।
ভারতের আসাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো
তিনি জানান, স্বামী-সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন মুম্বাইয়ে ছিলেন। ২৪ জুলাই আসাম সীমান্ত দিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানো হয়। পরিবার ও থাকার জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তায় এখন তাঁকে এক কৃষকের বাড়িতেই আশ্রয় নিতে হচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তি
পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই মানুষকে ঠেলে দেওয়া হলে তা সংবিধান, আইন এবং আদালতের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাদের অভিযোগ, আটক বা বহিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া মানা হচ্ছে না।
বিজিবির তথ্য, সীমান্তে চেষ্টা থামছে না
সীমান্তে এমন ঘটনার প্রসঙ্গে বিজিবির সদর দপ্তরের তথ্যও এসেছে। তাদের মতে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিএসএফের পুশ ইনয়ের ঘটনা ঘটেছে এবং গত মে মাস থেকে আবার চেষ্টা বাড়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। এই পটভূমিতেই সাহিদা ফকিরের বর্তমান অবস্থান আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।
প্রবাসী পরিবারের নিরাপত্তা প্রশ্নে
সাহিদা ফকিরের মতো মানুষরা কাজের সন্ধানে এক দেশ থেকে আরেক দেশে যান, কিন্তু সীমান্তে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়ে। প্রবাসী বাঙালিদের জন্যও এটি সরাসরি সতর্কবার্তা—কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বাস্তুচ্যুতির ভয় থেকে যায়।
কয়েকটি প্রশ্ন
১) সাহিদা ফকির এখন কোথায় আছেন?
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া এলাকায় এক কৃষকের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
২) তিনি কেন দেশে ফেরার কথা বলছেন?
সীমান্তে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার পর তাঁর জীবন-নিরাপত্তা ও থাকার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
৩) মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মূল অভিযোগ কী?
আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক বা বহিষ্কারের মতো আচরণ করা হচ্ছে—এমন উদ্বেগ তারা তুলেছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









