GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সাহিত্য / রবীন্দ্রনাথ কেন শেষ জীবনে চলচ্চিত্রে গেলেন

রবীন্দ্রনাথ কেন শেষ জীবনে চলচ্চিত্রে গেলেন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও চলচ্চিত্র—অনুপ্রেরণামূলক প্রতিকৃতি ও সাংস্কৃতিক দৃশ্য

জীবনের একেবারে শেষ দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে পথে পা বাড়ান, সেখানে ছিল নতুন ভাষার সন্ধান। নটীর পূজা—তাঁর একমাত্র পরিচালিত চলচ্চিত্র—স্রেফ নাটককে পর্দায় আনার চেষ্টাই ছিল কি? প্রশ্নটা আরও গভীর।

মাধ্যম বদলালেও লক্ষ্য এক

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও চলচ্চিত্র—অনুপ্রেরণামূলক প্রতিকৃতি ও সাংস্কৃতিক দৃশ্য

রবীন্দ্রনাথকে দেখলে বোঝা যায়, তিনি এক জায়গায় থেমে থাকা শিল্পী ছিলেন না। কবিতা থেকে গান, গান থেকে নাটক, নৃত্যনাট্য, চিত্রকলা—সবখানেই তিনি নতুন প্রকাশভাষা খুঁজেছেন। ফলে চলচ্চিত্রের দিকে ঝোঁকটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এক ধারাবাহিক অনুসন্ধান।

১৯৩২: নটীর পূজা ও শেষ পর্যায়ের সাহস

জানা যায়, ১৯৩২ সালে তিনি নটীর পূজা চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন। এটি তাঁর প্রথম এবং একমাত্র চলচ্চিত্র। তখন তাঁর বয়স একাত্তর; বিশ্বসাহিত্যে অবস্থানও সুপ্রতিষ্ঠিত। ঠিক এই পূর্ণতার সময়েই এমন একটি শিল্পমাধ্যমের দিকে এগোনো—যার ভাষা তখনও নির্মাণের পর্যায়ে।

দৃশ্য, গতি, সময়ের শিল্প—কেন টানল

স্রেফ নিজের নাটককে পর্দায় রূপ দেওয়ার বাইরেও এখানে ছিল অন্য ভাবনা। চলচ্চিত্রে দৃশ্য, গতি এবং সময়—এই উপাদানগুলো এক নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। রবীন্দ্রনাথের শিল্পচর্চার ধারা দেখে মনে হয়, তিনি এমন এক মাধ্যম খুঁজছিলেন যেখানে মানুষের অনুভূতি আরও পরিপূর্ণভাবে প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়।

আগে থেকেই ভাবনায় চলচ্চিত্র

এই আগ্রহ আকস্মিক ছিল না। চলচ্চিত্র বিষয়ে তাঁর চিন্তার প্রথম স্পষ্ট সূত্র মেলে ১৯২৯ সালের প্রবন্ধ ‘চলচ্চিত্র’-তে। সেখানে তিনি একটি কেন্দ্রীয় প্রশ্ন তোলেন—চলচ্চিত্র কি সাহিত্য বা নাটকের অনুসারী হবে, নাকি নিজের স্বতন্ত্র ভাষা তৈরি করবে। এই প্রশ্ন থেকেই তাঁর চলচ্চিত্রচিন্তার যাত্রা শুরু।

প্রযুক্তির গতি—রবীন্দ্রনাথের পর্যবেক্ষণ

বিশ শতকের প্রথম তিন দশক ছিল নতুন প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সময়। আলোকচিত্র, গ্রামোফোন, রেডিও এবং চলচ্চিত্র মানুষের অভিজ্ঞতা প্রকাশের পথ বদলাচ্ছিল। রবীন্দ্রনাথ প্রযুক্তিকে কেবল অভিনবত্বের জন্য দেখেননি; দেখেছেন শিল্পসম্ভাবনার দৃষ্টিতে। ফলে চলচ্চিত্রে তাঁর টান ছিল একধরনের শিল্প-অনুসন্ধান।

প্রবাসী পাঠকদের জন্যও বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সাংস্কৃতিক ভাষা বদলালে কেবল শিল্পের ধরন নয়, উপলব্ধির ধরনও বদলায়। রবীন্দ্রনাথের এই উদ্যোগ মনে করিয়ে দেয়—ভবিষ্যৎ নির্মাণে নতুন মাধ্যম গ্রহণ সবসময় নতুন সুযোগ তৈরি করে।

তথ্যভিত্তিক কয়েকটি প্রশ্ন

রবীন্দ্রনাথের একমাত্র পরিচালিত চলচ্চিত্র কোনটি?
নটীর পূজা।

চলচ্চিত্র বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ কোন প্রবন্ধে প্রশ্ন তুলেছিলেন?
১৯২৯ সালের ‘চলচ্চিত্র’ প্রবন্ধে।

শেষ জীবনে চলচ্চিত্রে যাওয়ার পেছনে মূল ভাবনা কী?
নাটক অনুসরণ নয়, চলচ্চিত্রের নিজস্ব ভাষা ও শিল্পসম্ভাবনা খোঁজা—এই প্রশ্নই প্রাধান্য পায়।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons