GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / রাজনীতি / দলের নেতা–কর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধের আহ্বান রফিকুল ইসলামে

দলের নেতা–কর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধের আহ্বান রফিকুল ইসলামে

বিএনপির নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে ফেসবুক পোস্টের বার্তা

ঝালকাঠিতে বিএনপির একজন সংসদ সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে সরাসরি আহ্বান জানালেন—‘খাই খাই’ বন্ধ করতে। এমন মন্তব্য ঘিরে জেলা রাজনীতিতে আলোচনার ঝড় উঠেছে, বিশেষ করে তৃণমূলের মধ্যে থাকা অর্থনৈতিক সুবিধা আর পদধারীদের আনুগত্য প্রশ্নে।

ফেসবুক পোস্টে কঠোর বার্তা

বিএনপির নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে ফেসবুক পোস্টের বার্তা

ঝালকাঠি–১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি নেতা–কর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধ করার অনুরোধ জানান।

পোস্টে তিনি বলেন, ছয় মাসে অনেক খাওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি অভিযোগ তোলেন—আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের পাহারার বিনিময়, আওয়ামীদের পক্ষে ওকালতি, আওয়ামীদের বাড়িঘর ও ঠিকাদারি পাহারা—এসবের মাধ্যমেও সুবিধা নেওয়ার কথা উঠে আসে। পরে আবার টাকার বিনিময়ে আওয়ামীদের দলে যোগ দিয়েও খেতে থাকা প্রসঙ্গও টানেন।

দলের প্রতি আনুগত্য প্রশ্নে ক্ষোভ

রফিকুল ইসলাম জামালের ভাষায়, পরিস্থিতি এমনই দাঁড়িয়েছে যে দলকে যেন ‘খেয়ে ফেলবে’ এমন আশঙ্কা কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, যারা রক্তের বিনিময়ে এমন সুযোগ পেয়েছে, তাদের জন্য দোয়া–মোনাজাত করার কথা মনে রাখার ইঙ্গিত দেন। একই সঙ্গে শুধুই পদ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকলে দ্রুত দল থেকে সরে যাওয়ার কথাও জানান।

স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

ওই পোস্ট প্রকাশের পরপরই ঝালকাঠি এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। দলীয় নেতা–কর্মীদের একটি অংশের ধারণা, কীর্তিপাশার একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই রফিকুল ইসলাম জামাল এমন মন্তব্য করেছেন।

অন্যদিকে, কিছু অভিযোগও উঠে এসেছে—গণ–অভ্যুত্থানের পর নাকি বিএনপির পদধারী যুবদল ও দলের কয়েকজন নেতা বিভিন্ন ঠিকাদারি দেখভাল করছেন, আবার কিছু আইনজীবী রাজনৈতিক মামলায় আওয়ামীপন্থী পক্ষের পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন। এসব বিষয়েও তিনি ক্ষুব্ধ কি না—এমন ভাবনাও ছড়িয়েছে।

প্রকল্প স্থগিত প্রসঙ্গও আছে

সাম্প্রতিক সময়ে ঝালকাঠির জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহাদাৎ হোসেনের পাঠানো প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে টানাপোড়েন দেখা যায়। অভিযোগ ওঠে, আসনের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় না করে অনুমোদনের জন্য প্রকল্প পাঠানো হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঝালকাঠি–১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল প্রকল্প বাতিলের উদ্যোগের কথা জানান।

প্রবাসী পাঠকের কাছে কেন গুরুত্বপূর্ণ

প্রবাসী বাংলাভাষীদের জন্যও এই ধরনের বার্তা গুরুত্বপূর্ণ—কারণ দলের ভেতরের শৃঙ্খলা, সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা, এবং তৃণমূলের প্রতি কার্যকর নজরদারি বজায় থাকলে দেশে ফিরে ভোট, কর্মসংস্থান ও নীতিনির্ধারণ—সব ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়ে।

কয়েকটি প্রশ্ন

রফিকুল ইসলাম জামাল কী বিষয়ে আহ্বান জানালেন?
দলের নেতা–কর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধ করতে।

মন্তব্যটি কোথায় প্রকাশ করা হয়?
তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে।

স্থানীয় রাজনীতিতে কেন আলোচনা হচ্ছে?
দলের ভেতরের সুবিধা নেওয়া ও আনুগত্য প্রশ্নে ক্ষোভের ইঙ্গিত থাকায়।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons