আলীকদমে রেংমিটচা ভাষার শেষ কথা

বান্দরবানের আলীকদমের কয়েকটি পাড়ায় একসময় বেশ কয়েকজন মানুষ রেংমিটচা ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতেন। সময়ের সঙ্গে তা কমতে কমতে এখন এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে যে, দুজন ছাড়া আর কেউ অনর্গল কথা বলতে পারেন না।
মৃত্যুর ধাক্কায় কমে এসেছে বক্তার সংখ্যা
ম্রো জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রচলিত এই স্বতন্ত্র ভাষাটি টিকিয়ে রাখার মানুষও ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে। কয়েক বছর ধরে আলোচনা চললেও বাস্তবতা বদলায়নি। এক সময় ছয়জন সাবলীলভাবে বলতে পারতেন। পরে তা নেমে আসে তিনজনে। সেই তিনজন আবার একই পরিবারের তিন ভাই।
গত মে মাসে তাঁদের একজন মাংওয়াই ম্রো মারা যাওয়ার পর ভাষাটির সাবলীল বক্তা নেমে আসে দুজনে। তবে এখনো বেঁচে থাকা কিছু মানুষ ভাষাটি বোঝেন, সামান্য জানেন—কিন্তু অনর্গল বলতে পারেন না। সামগ্রিকভাবে জীবিত অবস্থায় রেংমিটচা জানা মানুষের সংখ্যা এখন এক অঙ্কের মধ্যেই।
পরিবারের ভেতরেই চর্চা নেই
ভাষাবিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ বলছে, যাদের মধ্যে ভাষাটি টিকে আছে, তাদের অনেকেই পরিবারে ম্রো ভাষার পাশাপাশি রেংমিটচা চর্চার সুযোগ পাচ্ছেন না। পরিবারের অন্য সদস্যরা ভাষাটি না জানায় বাধ্য হয়ে ম্রো ভাষায় কথা বলতে হয়। আবার পারিবারিকভাবে নিয়মিত চর্চা না থাকায় ভাষাটি বিলুপ্তির দিকে দ্রুত এগোচ্ছে।
গবেষণার মাঠে ভাষার ভাঙা রূপও ধরা পড়েছে
ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজে রেংমিটচা ভাষা নিয়ে গবেষণা করছেন এমন একজন গবেষকের মাঠ জরিপে দেখা গেছে—সবাই সাবলীলভাবে পারেন না। কিছু মানুষ ভাঙা ভাঙা বুঝতে বা বলতে পারেন। একই ভাষার জ্ঞান থাকলেও বক্তাদের বসবাসও আলাদা হয়ে গেছে; ফলে ভাষার নিয়মিত ব্যবহার ও প্রজন্মের মধ্যে হস্তান্তর দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এই অবস্থায় রেংমিটচা ভাষা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। সাবলীল দুজনের পাশাপাশি যারা টুকটাক বলতে পারেন, তারাও সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেলে ভাষাটির টিকে থাকার পথ আরও সংকুচিত হবে—এমনই আশঙ্কা ভাষাবিজ্ঞানীদের।
প্রবাসী পাঠকদের জন্য প্রশ্ন
১) রেংমিটচা ভাষা বাঁচাতে স্থানীয় উদ্যোগ আর পারিবারিক চর্চাই কি সবচেয়ে জরুরি?
২) যাদের কাছে এখনো ভাষার জ্ঞান আছে, তাদের নথিভুক্তকরণ কতটা দ্রুত হওয়া দরকার?
৩) প্রবাসী বাংলাদেশিরা কীভাবে এই ধরনের ভাষা ও সংস্কৃতিকে সহায়তা দিতে পারেন?
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









