GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / বিশেষ খবর / ছাদবাগানে জাতীয় পুরস্কার শেরপুর পৌরসভার

ছাদবাগানে জাতীয় পুরস্কার শেরপুর পৌরসভার

শেরপুর পৌরসভা কার্যালয়ের ছাদবাগানে ফুল ও গাছের সারি

একটা শহরের ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সবুজকে ছুঁয়ে ফেলেছে জাতীয় স্বীকৃতি। শেরপুর পৌরসভার কার্যালয় ভবনের ছাদবাগান ছাদবাগানে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে—পরিকল্পিত বিন্যাস, নিয়মিত পরিচর্যা আর নানা প্রজাতির উদ্ভিদের সমাহারের জন্য।

ছাদজুড়ে ফুল-ফল-ভেষজের নান্দনিক আয়োজন

শেরপুর পৌরসভা কার্যালয়ের ছাদবাগানে ফুল ও গাছের সারি

পৌরসভা কার্যালয়ের ছাদবাগানে ঢুকলেই মনে হবে, এটি শুধু একটি ভবনের অংশ নয়; ছোট পরিসরে গড়ে ওঠা সত্যিকারের উদ্ভিদ উদ্যান। চারদিকে বাহারি ফুলের সমারোহ। কোথাও সারি সারি জলপাই, সফেদা, কতবেল, আম ও জামগাছ দেখা যায়, আবার কোথাও থাকে পিটুনিয়া, পীতরাজসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুল।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, এখানে কেবল সৌন্দর্যের গাছ নয়—ঔষধি ও সবজি গাছও আছে। পাশাপাশি দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় ও বিরল প্রজাতির গাছও রাখা হয়েছে। গাছগুলো ড্রাম, টব বা ঝুলন্ত পাত্র—বাগানের নকশার সঙ্গে মিলিয়ে বিভিন্নভাবে বেড়ে উঠেছে। প্রতিটি গাছের পাশে আছে এর বৈজ্ঞানিক নামের ফলক।

বিজ্ঞানভিত্তিক বিন্যাস—স্বীকৃতির বড় কারণ

পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের দিকে ভবনের ছাদে ছোট পরিসরে বাগান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে বাগানের পরিধি ও বৈচিত্র্য বাড়ানোর কাজ শুরু হয়। প্রথম দিকে স্বল্প পরিসরের বাগান থাকলেও ধাপে ধাপে গাছ সাজানোর কাজ এগিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ।

আরিফা সিদ্দিকা যখন পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেন, তখন ছাদবাগানের পরিসর বাড়াতে উদ্যোগ জোরদার হয়। এরপর সহকারী কর আদায়কারীর তত্ত্বাবধানে প্রায় নির্দিষ্ট আয়তনের জায়গাজুড়ে গাছগুলোকে বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে বিন্যাস করে নতুনভাবে সাজানো হয়।

পুরস্কারটি কীভাবে এলো

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছাদবাগানটি জাতীয় পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়। প্রতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বাগানটি তৃতীয় হয়েছে। রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট পৌর প্রশাসক পুরস্কার গ্রহণ করেন।

শোভাবর্ধন থেকে বিরল প্রজাতি—বাগানের বৈচিত্র্য

বর্তমানে বাগানে ১০ প্রজাতির বনজ, ২০ প্রজাতির ফলদ ও ১৮ প্রজাতির ভেষজ গাছ রয়েছে। প্রায় ২০০ প্রজাতির ফুলও আছে। এছাড়া ৯ প্রজাতির দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় গাছ, ১০ প্রজাতির অর্কিড, ৭ প্রজাতির বিরল গাছ এবং ১৮ প্রজাতির সবজি ও অন্যান্য গাছ মিলিয়ে ছাদবাগানটি আরও সমৃদ্ধ হয়েছে।

প্রবাসীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

দূর থেকে দেখলেও বিষয়টা আশাবাদের। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও নিজের এলাকার পরিবেশ উদ্যোগের এমন অর্জনকে তুলে ধরতে পারেন, চাকরি-অর্থের পাশাপাশি আমাদের নগরজীবনে গাছ-সবুজ যে বাস্তব উন্নতি আনে—এটা তারই প্রমাণ।


সংক্ষেপে কয়েকটি প্রশ্ন

ছাদবাগানে কী ধরনের গাছ আছে?
বাগানে ফলদ, ভেষজ, ফুল, সবজি, অর্কিড এবং দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় ও বিরল প্রজাতির গাছও রয়েছে।

পুরস্কার কোন অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে পেয়েছে?
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে।

এটা কি শুধু সৌন্দর্যের জন্য?
না, বৈজ্ঞানিক নামের ফলকসহ পরিকল্পিত বিন্যাস ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে পরিবেশের দিকটাও গুরুত্ব পেয়েছে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons