GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / খোলা বর্জ্য টাঙ্গাইল প্রবেশদ্বারে দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে

খোলা বর্জ্য টাঙ্গাইল প্রবেশদ্বারে দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে খোলা বর্জ্যের দৃশ্য

টাঙ্গাইলের দুই প্রধান প্রবেশমুখ এখন ভাগাড়ের মতো। রাবনা বাইপাস আর কাগমারী এলাকার প্রধান সড়কের পাশে খোলা বর্জ্য ফেলায় দুর্গন্ধে নাক চেপে চলতে হচ্ছে হাজার হাজার যাত্রী ও পথচারীকে। প্রবাসী পাঠকের কাছেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ—কারণ শহরের স্বাস্থ্যঝুঁকি আর যাতায়াতের ভোগান্তি সরাসরি পরিবার, কাজের সুযোগ আর দৈনন্দিন স্বস্তিতে প্রভাব ফেলে।

দুই প্রবেশপথেই উন্মুক্ত ময়লা ফেলা

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে খোলা বর্জ্যের দৃশ্য

দীর্ঘদিনেও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শোধনাগার গড়ে না ওঠায় টাঙ্গাইল শহরের সব ধরনের ময়লা রাখা হচ্ছে খোলা জায়গায়। টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাবনা বাইপাস এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশমুখ কাগমারী শ্মশানঘাট এলাকার প্রধান সড়কের পাশে পৌরসভার ট্রলি ও ভ্যান দিয়ে দিনে-রাতে বর্জ্য ঢেলে দেওয়া হচ্ছে।

দুর্গন্ধে যাত্রীরা বাধ্য হচ্ছেন নাক চেপে

মহাসড়ক ধরে যাতায়াত করা হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহনের যাত্রীরা ওই এলাকা পার হতে নাকে রুমাল বা কাপড় চেপে যাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়া দুর্গন্ধে টাঙ্গাইল শহরে ঢুকলেই প্রথম অভিজ্ঞতাই হয়ে উঠছে কষ্টের—এমনটাই জানান ভুক্তভোগীরা। আশেপাশের মানুষেরও অসুস্থ হয়ে পড়ার কথাও উঠে এসেছে।

গৃহস্থালি ছাড়িয়ে মেডিকেল বর্জ্যের ঝুঁকি

শুধু গৃহস্থালি বর্জ্য নয়, শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ক্ষতিকারক মেডিকেল বা ক্লিনিক্যাল বর্জ্যও উন্মুক্তভাবে সেখানে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। ফলে বাতাসে দুর্গন্ধের সঙ্গে রোগজীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়ে—যার প্রভাব পড়ে শ্বাসতন্ত্রসহ দীর্ঘমেয়াদে নানা জটিল রোগের ঝুঁকিতে।

পানি, বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতাতেও বাড়তি ভোগান্তি

খোলা আবর্জনায় দুর্গন্ধ হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। টিউবওয়েলের পানি নিয়েও একই ধরনের দুর্ভোগ দেখা যাচ্ছে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আবার বৃষ্টির সময় উন্মুক্ত বর্জ্য ও প্লাস্টিক ধুয়ে নালা-ড্রেনে আটকে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে—ফলে শহরের চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

দখল-উন্নয়ন ও খাল সংকটের কথাও উঠেছে

একসময় টাঙ্গাইল শহরের প্রাণ হিসেবে পরিচিত ভিক্টোরিয়া রোড ঘেষে শ্যামা বাবুর খালসহ বেশ কয়েকটি খাল অপরিকল্পিত উন্নয়ন, অবৈধ দখল ও বর্জ্য ফেলার কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে—এমন কথাও বলেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, এক মিনিটও ওই এলাকায় দাঁড়ানো যায় না। দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে নাক ধরে চলাচল করতে হয়। তাদের দাবি—অতি দ্রুত আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শোধনাগার ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হোক।

প্রবাসী পরিবারের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

টাঙ্গাইলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই দুরবস্থায় রোগঝুঁকি আর যাতায়াতজনিত ভোগান্তি বাড়ছে। প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা দেশে ফিরে গেলে বা স্বজনদের স্বাস্থ্যগত খরচ বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি অর্থনৈতিক চাপেও পড়ে। তাই শহরের নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেবল পরিবেশ নয়—মানুষের জীবন ও স্বস্তির সঙ্গেও জড়িত।

প্রশ্ন-উত্তর

প্রশ্ন: টাঙ্গাইলের কোন জায়গায় বেশি বর্জ্য ফেলা হচ্ছে?
উত্তর: টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাবনা বাইপাস এবং কাগমারী শ্মশানঘাট এলাকার প্রধান সড়ক পাশে উন্মুক্তভাবে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।

প্রশ্ন: দুর্গন্ধের কারণে কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে?
উত্তর: যাত্রী ও পথচারীদের নাকে কাপড় চেপে চলতে হচ্ছে, আশপাশের মানুষেরও অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা ও কথা উঠছে।

প্রশ্ন: মেডিকেল বর্জ্য নিয়েও অভিযোগ আছে কি?
উত্তর: স্থানীয়দের অভিযোগ—শহরের বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ক্লিনিক্যাল বর্জ্যও সেখানে উন্মুক্তভাবে ফেলা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons