তিস্তা মহাপরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া, চলমান গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষের সময়কে সামনে রেখে নবায়নের প্রস্তুতি এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামা ঠেকাতে বড় আকারের খাল খননের পরিকল্পনা—এসবই সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী।
মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনা বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে তিনি বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় নিশ্চিত করা এবং নদীভাঙন রোধের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনকে টেকসই করতে সরকার দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই উদ্যোগগুলো প্রবাসী পরিবারের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলবে—কারণ কৃষি স্থিতিশীল হলে খাদ্যের যোগান ও দামের ওঠানামা কমে, মানুষের আয়ের ভবিষ্যৎও তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হয়।
গঙ্গা চুক্তি নবায়নে জোর, যৌথ নদী কমিশন সচল

মন্ত্রী জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চলমান গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বর্তমান সরকার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের ওপর জোর দিচ্ছে এবং নতুন চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত করার গুরুত্বও দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যৌথ নদী কমিশন ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্য
উত্তরের তিস্তা নদী অববাহিকার মানুষের দুর্দশা লাঘব ও পানিসংকট কমাতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ চলছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষার নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান খুঁজতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতার কথাও বলেন তিনি।
পদ্মা ব্যারাজ ও কৃষি বিপ্লবের পরিকল্পনা
পাশাপাশি প্রায় সাত কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও কৃষির সামগ্রিক বিপ্লবের লক্ষ্য নিয়ে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী। নদী ব্যবস্থাপনা ও পানি নিয়ন্ত্রণে এই ধরনের বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষকের উৎপাদন ঝুঁকি কমে এবং সেচনির্ভরতা বাড়ে—যা অর্থনৈতিক স্থিতিতে ভূমিকা রাখে।
ভূগর্ভস্থ পানি রক্ষায় খাল খনন-সহ সমন্বিত কাজ
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ভূউপরিস্থ পানির সরবরাহ বাড়াতে চার মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে খাল খনন বা পুনঃখনন করা হবে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে কৃষি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ বাস্তবায়ন করবে।
পরিবেশ ও এসডিজি বাস্তবায়নে বৃক্ষরোপণ উদ্যোগ
পরিবেশ সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দৃশ্যমান উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে। এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার সময়ের মধ্যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যাবে বলেও উল্লেখ করেন।
সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
প্রবাসী পাঠকদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
পানি ব্যবস্থাপনা ও নদীভাঙন রোধে সরকার যে পদক্ষেপ বলছে, তা কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এসব স্থিতি তৈরি হলে বাজারদর ও কর্মসংস্থানের সুযোগ—দুই দিকেই ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা প্রবাসী পরিবারের রেমিট্যান্স-নির্ভর জীবনেও স্বস্তি আনে।
দ্রুত জেনে নিন
১) গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ কবে? নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়ের মধ্যে নয়, ডিসেম্বরের মধ্যেই চলমান গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে বলে বলা হয়েছে।
২) তিস্তা মহাপরিকল্পনার লক্ষ্য কী? তিস্তা অববাহিকার শুষ্ক মৌসুমের পানিসংকট ও বর্ষার নদীভাঙন কমিয়ে মানুষের দুর্দশা লাঘব।
৩) ভূগর্ভস্থ পানি রক্ষায় কী করা হবে? ভূউপরিস্থ পানির সরবরাহ বাড়াতে খাল খনন বা পুনঃখননের পরিকল্পনার কথা এসেছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









