ভাসানচরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের অবকাঠামো গড়তে সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক বিদ্যুৎ সুবিধা। সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র, ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা স্থাপনের কাজ দেয়া হয়েছে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠার যৌথ উদ্যোগকে।
১৭৪ কোটি টাকার ভাসানচর সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প

সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন ‘নোয়াখালী জেলার ভাসানচরে বিদ্যুতায়ন’ প্রকল্পের আওতায় কাজটি করা হবে।
এ প্রকল্পে মূল্য সংযোজন করসহ মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৪ কোটি ১৮ লাখ ২ হাজার ২৮২ টাকা।
টার্নকি প্যাকেজে সৌরকেন্দ্র ও গ্রিড সুবিধা
প্যাকেজ নম্বর জি ডি-১-এর আওতায় কাজটি হবে টার্নকি ভিত্তিতে। এর মধ্যে থাকবে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা বসানো এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা স্থাপন। অর্থাৎ প্রকল্পের উৎপাদন থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ সরবরাহের অবকাঠামো—সব মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন কাঠামো ধরা হয়েছে।
দরপত্রে অংশ, শেষ পর্যন্ত যৌথ উদ্যোগ নির্বাচিত
কাজ ক্রয়ের জন্য এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতিতে উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। মোট জমা পড়ে ১৩টি দরপত্র। এর মধ্যে ৫টি দরপত্র কারিগরি ও আর্থিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষে মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয় চীনের সুহুয়া কনস্ট্রাকশন গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড এবং বাংলাদেশের পাওয়ার সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড—এই দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ।
অনুমোদন, মেয়াদ ও অর্থায়ন কাঠামো
নোয়াখালী জেলার ভাসানচরে বিদ্যুতায়ন প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর অনুমোদন করে। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অর্থায়ন আসবে বিশ্বব্যাংক এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব তহবিল থেকে।
ভাসানচর এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা জোরদার করতে এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ ধাপে ধাপে এগোবে—যেখানে উৎপাদন ব্যবস্থার পাশাপাশি সংরক্ষণ ও বিতরণ অংশও একই চুক্তির মধ্যে রাখা হয়েছে।
প্রশ্নোত্তর
কাজটি কারা পাবে?
সুহুয়া কনস্ট্রাকশন গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড (চীন) ও পাওয়ার সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগ।
মোট ব্যয় কত?
ভ্যাট ও করসহ মোট ১৭৪ কোটি ১৮ লাখ ২ হাজার ২৮২ টাকা।
প্রকল্পের মেয়াদ কত?
২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









