সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি কমতে শুরু করেছে। তবু বন্যার ক্ষতি আর দুর্ভোগ থামেনি—জমি ডুবে থাকা ফসল নষ্ট হয়ে আছে, কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন সেই চিন্তাই এখন সবচেয়ে বড় চাপ প্রবাসী পরিবারের কাছেও বার্তা হয়ে এসেছে।
বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিতে

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার কাজীপুর, চৌহালী, সিরাজগঞ্জ সদর ও শাহজাদপুর এলাকায় পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে। ফলে মানুষ ধীরে ধীরে আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়তে শুরু করেছে।
হার্ড ও কাজীপুর পয়েন্টে পানি কমেছে
পাউবোর পানি পরিমাপক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হার্ড পয়েন্টে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পানি কমেছে। একই সময় কাজীপুর পয়েন্টেও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার মধ্যেই পানি আরও নেমেছে। অর্থাৎ নদীর পানি নামার ধারা দেখা গেলেও বাস্তব ক্ষতি এখনই উবে যায়নি।
জমি জেগে উঠলেও ক্ষতি অপূরণীয়
চৌহালী উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের সমছের আলী বলছেন, চলমান বন্যায় তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জমি তলিয়ে শাকসবজি ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তিনি আশা করেছিলেন শাকসবজি বিক্রি করে গরু কেনার মতো সামর্থ্য হবে, কিন্তু তা আর হয়নি। পানি নেমে ডুবে থাকা জমি জেগে উঠলেও বন্যায় নষ্ট হওয়া উৎপাদনের ঘাটতি রয়ে গেছে।
একই উপজেলার জুড়ান শেখের কথায়, তার জমির সবজি খেত নষ্ট হয়েছে এবং পাটের খেতও ক্ষতিগ্রস্ত। পানি কমার পর কী করবেন—এটাই এখন তার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা। ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে বানভাসীদের মধ্যে।
ত্রাণ কার্যক্রম চলছে, ফেরার তাড়া আছে
বানভাসি মানুষের পাশে থাকতে জেলা-উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন এনজিও এবং রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। বন্যাকবলিত চৌহালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টি না থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবেন। তাদের মতে, যতদিন পরিস্থিতি থাকবে ততদিন ত্রাণ সহায়তা চালু থাকবে।
প্রবাসী পরিবারের জন্যও এই খবর গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সিরাজগঞ্জে জমি-ফসলের ক্ষতির প্রভাব পড়ছে সংসারের আয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়। পানি নেমে এলেও কৃষি ক্ষতি কাটাতে সময় লাগবে—সেই সময়েই সহায়তা ও পুনর্বাসনের প্রস্তুতি সবচেয়ে জরুরি।
প্রশ্ন-উত্তর
যমুনার পানি কি কমছে? হ্যাঁ, বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত অবস্থাতেই গত ২৪ ঘণ্টায় পানি কমেছে।
মানুষ কি আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ছেন? পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ায় ধীরে ধীরে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়তে শুরু করেছে।
দুর্ভোগ পুরোপুরি কাটেনি কেন? পানি নেমে গেলেও জমি-ফসলের ক্ষতি এবং ক্ষয়ক্ষতির চাপ এখনো রয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









