মাথায় উকুনের সমস্যা বেশ বিরক্তিকর। বিশেষ করে শিশু ও মেয়েদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। উকুনের কারণে মাথায় সারাক্ষণ চুলকানি, অস্বস্তি এবং কখনো জ্বালাপোড়াও হতে পারে।
অনেকেই উকুননাশক শ্যাম্পু বা বিভিন্ন ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করেও পুরোপুরি মুক্তি পান না। তবে ওষুধ ছাড়াও উকুন দূর করার একটি কার্যকর পদ্ধতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজের চিকিৎসক ও সহায় হেলথের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডা. তাসনিম জারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উকুন থেকে মুক্তির কয়েকটি উপায় জানিয়েছেন তিনি।
প্রাকৃতিক উপায়ে উকুন দূর
ডা. তাসনিম জারার মতে, প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে উকুন দূর করতে প্রায় ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।
এই সময়ে প্রথম, পঞ্চম, নবম ও ১৩তম দিনে চুল ভিজিয়ে চিকন দাঁতের উকুনের চিরুনি দিয়ে ভালোভাবে আঁচড়াতে হবে।
ভেজা চুলে চিরুনি চালানোর মাধ্যমে বড় উকুনের পাশাপাশি উকুনের ডিমও দূর করা সম্ভব। চাইলে চুলে ভালোভাবে তেল দিয়েও এই পদ্ধতিতে আঁচড়ানো যেতে পারে।
উকুননাশক ওষুধ ব্যবহার
ছয় মাস বা তার বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে উকুননাশক ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তাসনিম জারা।
তার পরামর্শ অনুযায়ী, মাথার তালু থেকে চুলের গোড়া পর্যন্ত ভালোভাবে ওষুধ লাগাতে হবে। পুরো মাথা ও প্রতিটি চুলে যাতে ওষুধ পৌঁছায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
ওষুধটি প্রায় ১০ মিনিট মাথায় রাখার পর চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। তবে শ্যাম্পু করতে চাইলে ওষুধ ব্যবহারের ২৪ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কারা সতর্ক থাকবেন?
তাসনিম জারা জানিয়েছেন, গর্ভবতী নারী এবং যারা শিশুকে বুকের দুধ পান করান, তাদের উকুননাশক ওষুধ ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ওষুধ ব্যবহারের পর খুশকি হতে পারে। চোখে চলে গেলে জ্বালাপোড়াও হতে পারে। এমন হলে পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রসুন বা টি ট্রি অয়েল কি কার্যকর?
উকুন দূর করতে রসুন বা টি ট্রি অয়েল কার্যকর, এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছেন তাসনিম জারা।
তাই উকুন দূর করার জন্য এসব উপাদান ব্যবহারের পরামর্শ তিনি দেননি।
যে ভুলের কারণে বারবার উকুন হতে পারে
উকুন থেকে পুরোপুরি মুক্তি পেতে শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা করলেই হবে না। পরিবারের অন্য সদস্যদের মাথায় উকুন রয়েছে কিনা, সেটিও পরীক্ষা করতে হবে।
বাড়ির একাধিক ব্যক্তির মাথায় উকুন থাকলে সবাইকে একই দিনে চিকিৎসা শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত চিরুনি বা ব্রাশ প্রতিদিন ৫ মিনিট গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।
চিকিৎসা শুরুর আগের দুই দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা চাদরসহ প্রয়োজনীয় কাপড়ও গরম পানিতে ধুয়ে নেওয়া উচিত, যাতে সেগুলোতে থাকা উকুন বা ডিম থেকে আবার সংক্রমণ না ঘটে।








