GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / শেষ পাতা / ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হবে এলিভেটেড, ২২৪ কিমি নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হবে এলিভেটেড, ২২৪ কিমি নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হবে এলিভেটেড, ২২৪ কিমি নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনা

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ২২৪ কিলোমিটার মহাসড়কের ওপর দিয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার।

এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম অর্থনৈতিক করিডরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

পরিকল্পনার আওতায় দেশের আরও সাতটি প্রধান জাতীয় মহাসড়ক চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার কথা রয়েছে। পাশাপাশি জেলা মহাসড়কগুলো ১৮ থেকে ২৪ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যানবাহনের চাপ ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বেশি হলে কোনো কোনো সড়ক ৩৪ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করা হতে পারে।

এসব উন্নয়নকাজের বড় অংশ ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় দেশের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভার কার্যবিবরণীতে পরিকল্পনার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে যেসব উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সেগুলো চিহ্নিত করে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। বড় প্রকল্পে অর্থায়নের চাপ কমাতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এবং বৈদেশিক উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন নেওয়ার কৌশলও বিবেচনা করা হচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে। দেশের আমদানি-রপ্তানি, শিল্প-বাণিজ্য এবং বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনীতির বড় অংশ এই করিডরের ওপর নির্ভরশীল।

ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ মোকাবিলায় পুরো ২২৪ কিলোমিটার সড়ককে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমানে চালু থাকা সড়কের লেনগুলো নিয়মিত সংস্কার ও মেরামতের মাধ্যমে সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা পর্যায়ের সড়কগুলোর ক্ষেত্রেও উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব সড়ক ১৮ থেকে ২৪ ফুটে উন্নীত করা হবে। তবে ট্রাফিক ভলিউম ও এলাকার অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় সমীক্ষার ভিত্তিতে কোনো কোনো সড়ক ১০ দশমিক ৩ মিটার বা ৩৪ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করা হতে পারে।

এছাড়া দেশের আরও সাতটি প্রধান জাতীয় মহাসড়কের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব মহাসড়কে এখনো সম্প্রসারণ বা উন্নয়নকাজ শুরু হয়নি, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার কার্যক্রম নেওয়া হবে।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নরসিংদীর একটি সড়ক প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে সভায় বিশেষ আলোচনা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা হলে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা বা সভার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য উন্নয়নকাজ চিহ্নিত করে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, চার থেকে ছয় লেনের জাতীয় মহাসড়ক এবং প্রশস্ত জেলা সড়কের সমন্বয়ে দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আসতে পারে।

Social Icons