আর্লিং হালান্ডের একমাত্র গোলে কভেন্ট্রি সিটিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে টানা তৃতীয় জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। তবে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে নতুন করে প্রিমিয়ার লিগে উঠে আসা কভেন্ট্রির বিপক্ষে জয়টি মোটেও সহজ ছিল না। শেষ বাঁশি পর্যন্ত কঠিন লড়াই করতে হয়েছে সিটিকে।
পেপ গার্দিওলার দীর্ঘ ও সফল সময়ের পর দলকে ঢেলে সাজাতে দলবদলের বাজারে রেকর্ড ৪৬০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। এর সুবাদে নতুন সাইনিং এনজো ফার্নান্দেজ ও ইলিমান এনদিয়ায়েকে শুরুর একাদশে নামান নতুন কোচ মারেস্কা।
মারেস্কার অধীনে প্রিমিয়ার লিগে টানা তিন জয় পেলেও শনিবার রাতের ম্যাচটিকে নিখুঁত পারফরম্যান্স বলা যায়নি। দীর্ঘ ২৫ বছর পর শীর্ষ লিগে ফিরে প্রথম পয়েন্ট পাওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল কভেন্ট্রি।
শেষ মুহূর্তে সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার দুটি অসাধারণ সেভ মূলত দলটিকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দেয়।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই গোলের দেখা পান হালান্ড। চলতি মৌসুমে নিজের তিন ম্যাচে এটি তার তৃতীয় গোল। চেলসি থেকে দলবদলের রেকর্ড ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের ফি দিয়ে সিটিতে আসা এনজো ফার্নান্দেজের শুরুতে বেঞ্চে থাকার কথা ছিল। তবে ওয়ার্ম-আপের সময় নিকো ও’রাইলি চোট পাওয়ায় শুরুর একাদশে সুযোগ পান এই আর্জেন্টাইন তারকা।
আক্রমণভাগে হালান্ড, অ্যান্টোইন সেমেনিয়ো ও রায়ান চেরকির সঙ্গে অভিষেক হওয়া এনদিয়ায়েকেও নামানো হয়।
দুই দশক পর প্রিমিয়ার লিগে ফিরে কভেন্ট্রি আগের টানা তিন ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেনি। তবে এদিন শুরুতেই গোলের সুযোগ তৈরি করে তারা। গোলরক্ষক দোন্নারুম্মা ব্যাকপাস নিয়ন্ত্রণে ভুল করলে কোনোমতে গোললাইনের সামনে থেকে বল ফিরিয়ে নেন।
এরপর কভেন্ট্রির তাইও আওয়ারনিই ও জ্যাক রুডোনি দুটি সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় শুরুতেই পিছিয়ে পড়া থেকে বেঁচে যায় স্বাগতিকরা।
ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ম্যানচেস্টার সিটি। রায়ান চেরকির একটি দুর্দান্ত শট পোস্টে লেগে ফিরে আসার পর আসে কাঙ্ক্ষিত গোল।
ফার্নান্দেজের বাড়ানো বল ধরে ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে নিখুঁত ক্রস দেন সেমেনিয়ো। দূরের পোস্টে থাকা হালান্ড দারুণ এক হেডে বল জালে জড়িয়ে সিটিকে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে হালান্ডের দ্বিতীয় গোলের সুযোগও ঠেকিয়ে দেন কভেন্ট্রির গোলরক্ষক কার্ল রাশওয়ার্থ।
বিরতির পর ব্যবধান বাড়াতে ব্যর্থ হলে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকে ম্যানচেস্টার সিটি। কভেন্ট্রির লুম চাওনা ও এলিস সিমসের দুটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ ঠেকিয়ে দেন দোন্নারুম্মা।
শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে সিটি। হেরে গেলেও ল্যাম্পার্ডের কভেন্ট্রি বড় মঞ্চে লড়াই করার সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।
আগামী সপ্তাহে ডার্বি ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার সিটি। সেই ম্যাচের আগে নিজেদের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করার তাগিদ থাকবে মারেস্কার।
তবে আপাতত রবিবার চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল ও চেলসির মুখোমুখি হওয়ার আগেই প্রিমিয়ার লিগের টেবিলের শীর্ষে উঠে বসেছে সিটি।

