GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / বিনোদন ও সংস্কৃতি / বিনোদন / অন্যের ইবাদত নিয়ে মন্তব্য করার আগে নিজের আমলনামা নিয়ে ভাবুন: শবনম ফারিয়া

অন্যের ইবাদত নিয়ে মন্তব্য করার আগে নিজের আমলনামা নিয়ে ভাবুন: শবনম ফারিয়া

অন্যের হজ ও ওমরাহ পালন নিয়ে কটূক্তি না করে নিজের আমল ও আচরণ নিয়ে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। কার ইবাদত কবুল হবে, কার নিয়ত কতটা আন্তরিক কিংবা কে কখন হেদায়েত পাবেন—এসব নির্ধারণ করার অধিকার কারও নেই বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ধর্মকে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন শবনম ফারিয়া।

হজ-ওমরাহ নিয়ে কটূক্তি না করার আহ্বান

ফেসবুক স্ট্যাটাসে শবনম ফারিয়া লেখেন, কারও হজ বা ওমরাহ পালনের ছবি দেখে যদি কারও মনে প্রথমেই নেতিবাচক মন্তব্য করার ইচ্ছা জাগে, তাহলে তার নিজের আচরণ নিয়েই ভাবা উচিত।

হজ ও ওমরাহ পালনের বিষয়টি শুধু আর্থিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর সঙ্গে নিয়ত, তাওফিক ও আল্লাহর ইচ্ছার বিষয়ও জড়িত।

এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী লেখেন, ‘সবসময় মনে রাখবেন, বিষয়টি অর্থের নয়; বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে ডাক পাওয়ারও।’

‘আপনি কি আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়োগ পাওয়া বিচারক?’

অন্যের ইবাদত কবুল হবে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার অধিকার কারও নেই বলে মন্তব্য করেন শবনম ফারিয়া।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, কাউকে দেখে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব যে তাঁর ওমরাহ হবে না কিংবা তাঁর ইবাদত কবুল হবে না? এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়ার অধিকার কারও আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রাখেন তিনি।

অভিনেত্রীর মতে, কার আমল, নিয়ত ও প্রচেষ্টা আল্লাহ কবুল করবেন, তা মানুষের পক্ষে নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয়। তাই অন্যের ইবাদত নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করার আগে নিজের আমলনামার দিকে নজর দেওয়া উচিত।

তারকাদের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়েও মন্তব্যের সমালোচনা

বিনোদন অঙ্গনের তারকাদের হজ ও ওমরাহ পালন নিয়েও অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করেন বলে উল্লেখ করেন শবনম ফারিয়া।

তিনি বলেন, অভিনয় অনেকের পেশা হলেও তাঁদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাস ও ইবাদত নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার অন্য কারও নেই। শাহরুখ খান, আমির খান, হানিয়া আমির, দুর-এ-ফিশান ও ফাওয়াদ খানের মতো অনেক মুসলিম তারকা জীবনের কোনো না কোনো সময়ে হজ বা ওমরাহ পালন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের ধর্মীয় অবস্থান তুলে ধরে শবনম ফারিয়া লেখেন, ‘আমি খুব ধর্মচর্চার কোন মানুষ না, কিন্তু আমি অন্তত আপনার মতো অন্যকে জাজ করি না।’

ধর্মীয় বিষয়ে দ্বৈত মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন

অন্যের ধর্মীয় আচরণ নিয়ে সমালোচনার ক্ষেত্রে দ্বৈত মানদণ্ড অনুসরণ করা হয় কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন এই অভিনেত্রী।

যাঁদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের আত্মীয়দের হজ-ওমরাহর ছবি দেখেও সমালোচকেরা একই ধরনের মন্তব্য করেন কি না, তা জানতে চান তিনি। একইভাবে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া রাজনৈতিক নেতাদের ওমরাহর পোস্ট কিংবা ব্যাংকে বেশি মুনাফার আশায় টাকা রেখে সুদ গ্রহণকারীদের ছবি নিয়েও সমালোচকেরা একই অবস্থান নেন কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন শবনম ফারিয়া।

তাঁর মতে, ব্যক্তিগত অপছন্দ বা ঈর্ষা থেকে অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা উচিত নয়। ধর্মকে নিজের পছন্দ-অপছন্দের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান তিনি।

‘আনন্দিত হতে না পারলে চুপ থাকুন’

কারও আনন্দের মুহূর্তে নেতিবাচক মন্তব্য না করে প্রয়োজনে নীরব থাকার পরামর্শ দিয়েছেন শবনম ফারিয়া।

তিনি বলেন, কেউ নিজের জীবনের সুন্দর মুহূর্ত, আনন্দ কিংবা বিশ্বাস অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিলে তাতে আনন্দিত হতে না পারলেও নেতিবাচক মন্তব্য করা উচিত নয়। প্রয়োজনে সেই ব্যক্তির পোস্ট এড়িয়ে যাওয়া বা তাঁকে আনফলো করার পরামর্শও দেন তিনি।

কেউ লোক দেখানোর জন্য ধর্মীয় কাজ করছেন—এমন ধারণা তৈরি হলেও সেটি ব্যক্তিগত ধারণা হিসেবেই রাখা উচিত বলে মনে করেন অভিনেত্রী।

নিজের চরিত্র ও নিয়ত ঠিক করার পরামর্শ

স্ট্যাটাসের শেষাংশে অন্যের আমল নিয়ে ব্যস্ত না থেকে নিজের চরিত্র, আচরণ ও নিয়ত সংশোধনের ওপর গুরুত্ব দেন শবনম ফারিয়া।

তাঁর বক্তব্য, অন্যের ইবাদত কবুল হয়েছে কি না, তা আল্লাহর বিষয়। কিন্তু অন্যের ইবাদত নিয়ে কেউ কী ধরনের মন্তব্য করছেন, সেটি তাঁর নিজের আমলনামার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এভাবেই হজ-ওমরাহ পালন নিয়ে কটূক্তি বন্ধ করা এবং অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

তথ্যসূত্র: দৈনিক যুগান্তর

Social Icons