বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের আগে এবার বিহারের পানির প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ভারত সরকার।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বিহারের পানীয়জল ও শিল্পক্ষেত্রে পানির প্রয়োজনসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় বিবেচনায় রাখা হবে।
তবে কোনো সংবাদ সম্মেলনে নয়, জনতা দল ইউনাইটেডের জাতীয় কার্যকরী সভাপতি ও রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় কুমার ঝাকে লেখা ২৮ আগস্টের এক চিঠিতে জয়শঙ্কর এ অবস্থান জানান।
এর আগে গত ৬ আগস্ট রাজ্যসভায় গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে বিহারের স্বার্থ সুরক্ষার দাবি তুলেছিলেন সঞ্জয় কুমার ঝা। তার বক্তব্যের জবাবেই জয়শঙ্কর চিঠিটি দেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি সই হয়েছিল। ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা।
চুক্তিটির মূল বিষয় হলো, ফারাক্কা ব্যারাজে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানিপ্রবাহ কীভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বণ্টন হবে।
চুক্তি নবায়নকে কেন্দ্র করে এবার ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির একটি নতুন বিষয় সামনে এসেছে। বিহারের ক্ষমতাসীন জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ) দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, গঙ্গার পানিবণ্টনের ক্ষেত্রে বিহারের স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
জয়শঙ্কর তার চিঠিতে জানান, জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। চুক্তির বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সামগ্রিক পর্যালোচনার জন্য এসব আলোচনা করা হয়েছে।
২০২৩ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত চারটি পরামর্শ বৈঠকেও বিহার সরকারের অনুমোদিত প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এসব বৈঠকে পানীয়জল ও শিল্পক্ষেত্রে বিহারের প্রয়োজনসহ বিভিন্ন পক্ষের মতামত বিবেচনা করা হয়েছে।
চিঠিতে জয়শঙ্কর বলেন, এসব বিষয় মাথায় রেখেই ভারত সরকার উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়েছেন সঞ্জয় কুমার ঝা। তার দাবি, বিহার কোনো অনুগ্রহ চাইছে না। বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে রাজ্যের যে পরিমাণ পানি প্রয়োজন, সেটুকুই নিশ্চিত করার দাবি জানানো হচ্ছে।
ঝার বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী ৩০ বছরে বিহারের প্রায় ১৩ কোটি মানুষের পানীয়জল, সেচ ও শিল্পক্ষেত্রের পানির প্রয়োজন মেটাতে হবে। তাই গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের আগে বিহারের স্বার্থ পুরোপুরি ও ন্যায়সংগতভাবে বিবেচনা করা জরুরি।
ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই পানি চুক্তির নবায়নে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজ্যগুলোর পানির চাহিদা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে বিহারের দাবি সামনে আসায় গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আগামী ১২ ডিসেম্বর চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দিল্লি ও ঢাকার আলোচনায় বিষয়টি কতটা গুরুত্ব পায়, এখন সেদিকেই নজর।








