GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / নগর-মহানগর / টিসি ফি ও অফিস খরচের নামে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

টিসি ফি ও অফিস খরচের নামে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে সোনালি সেবার নামে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয় পরিবর্তনের (টিসি) জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া নির্ধারিত ফি ব্যাংকে জমা না দিয়ে একটি সিন্ডিকেট আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষে অষ্টম শ্রেণির টিসির জন্য প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করেন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সোনালি সেবা খাতে ১ হাজার টাকা নেওয়ার কথা ছিল। এই অর্থ শিক্ষা বোর্ডের সচিবের অনুকূলে ব্যাংকে জমা দেওয়ার নিয়ম।

অভিযোগ অনুযায়ী, অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নির্ধারিত ফি নগদে নেওয়া হয়। পরে সেই অর্থ বোর্ডের ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়েই টিসির কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থীর টাকা বোর্ডের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়। বাকি প্রায় ৩ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর টাকা বোর্ডের তহবিলে জমা পড়েনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

৩ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর জন্য বোর্ড নির্ধারিত ফি দাঁড়ায় ৩৮ লাখ টাকা। এর সঙ্গে অফিস খরচের নামে আরও ৬৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে আত্মসাতের অভিযোগের পরিমাণ ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে নির্ধারিত ১ হাজার টাকার বাইরে অফিস খরচ হিসেবে আরও ২ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণও ভিন্ন ছিল বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

টাকা নেওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থীকে কোনো ব্যাংক জমা রসিদ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, সার্ভারের কোড পরিবর্তনের মাধ্যমে বিশেষ পদ্ধতিতে টিসির কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

এই ঘটনায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় শাখার পরিদর্শক অধ্যাপক আমিনুল হক, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম চৌধুরী, বিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন শাখার সেকশন অফিসার মেজবাহুল ইসলাম বকুল এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী শহিদুল ইসলাম শহীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হতো। সেখানে নির্ধারিত ফি ছাড়াও অফিস খরচের কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে।

পরে সোনালি সেবার নির্ধারিত টাকা বোর্ডের ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়েই নোটে বিদ্যালয় পরিদর্শক আমিনুল হকের স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম চৌধুরীর মাধ্যমে মূল সার্ভারের কোড পরিবর্তন করে টিসির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ শিবরাম স্কুলের শিক্ষক তাহের উদ্দিন জানান, তিনি ১৯ শিক্ষার্থীর টিসির জন্য নগদ ৩৮ হাজার টাকা বিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন শাখার সেকশন অফিসার মেজবাহুল ইসলাম বকুলকে দিয়েছেন। তবে এর কোনো ব্যাংক রসিদ তিনি পাননি। এর বাইরে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য অফিস খরচ বাবদ ১ হাজার টাকা করেও দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১০০ শিক্ষার্থীর টিসির জন্যও নগদ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ফি ও অফিস খরচ মিলিয়ে জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দিয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই ব্যাংক জমার রসিদ পাননি বলে জানা গেছে।

রংপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০ শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেও ব্যাংক রসিদ না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ইমরুল হাসান।

বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন শাখার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী শহিদুল ইসলাম শহীদের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি বলেন, টাকা সংগ্রহ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হাতে দিয়েছেন। এরপর তারা কী করেছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক আমিনুল হক বলেন, বোর্ডের কন্ট্রোলার অধ্যাপক বোরহানউদ্দিনের নির্দেশে এই কাজ করা হয়েছে।

তবে কন্ট্রোলার অধ্যাপক বোরহানউদ্দিন অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, বিষয়টি বিদ্যালয় পরিদর্শকই জানেন।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াছ আহমেদ বলেন, বোর্ডের অনেক কাজের বিষয়ে তিনি অবগত নন। যারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছেন এবং যাদের দায়িত্ব ছিল, তারাই এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারবেন।

Social Icons