GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / দিল্লিতে বিক্ষোভ করতে গুনতে হবে মোটা অঙ্কের টাকা, বিকল্প তিন স্থান নিয়ে প্রশ্ন

দিল্লিতে বিক্ষোভ করতে গুনতে হবে মোটা অঙ্কের টাকা, বিকল্প তিন স্থান নিয়ে প্রশ্ন

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য যন্তর মন্তরের বিকল্প হিসেবে তিনটি স্থান নির্ধারণ করেছে দিল্লি পুলিশ। এগুলো হলো রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লির বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড। তবে এসব স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করতে খরচ, দূরত্ব, পর্যাপ্ত ছায়ার অভাব ও জায়গা পাওয়ার সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিকল্প স্থানগুলোর মধ্যে রামলীলা ময়দান কেন্দ্রীয় দিল্লির সবচেয়ে কাছে। কিন্তু সেখানে কর্মসূচি আয়োজনের জন্য ভাড়া দিতে হয়। অন্যদিকে, সিবিডি গ্রাউন্ড ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত। আর বুরারি ময়দান রাজধানীর কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে। ফলে এসব স্থানে বিক্ষোভ হলে সাধারণ মানুষ ও নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দিল্লির নগরজীবনের ইতিহাসবিদ ও লেখক সোহেল হাশমির মতে, প্রতিবাদের স্থান ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া হলে মানুষের দাবি সরকারের কাছে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। তার মতে, শুধু বড় মাঠ থাকলেই হবে না। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য যেন সরকার, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

রামলীলা ময়দানে দৈনিক ভাড়া ৫০ হাজার রুপি

যন্তর মন্তর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রামলীলা ময়দান। দীর্ঘদিন ধরে এখানে রাজনৈতিক সমাবেশ, মিছিল ও বিভিন্ন গণআন্দোলনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

দিল্লি পৌর করপোরেশনের (এমসিডি) এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১২ একর আয়তনের এই মাঠ ভাড়া নিতে প্রতিদিন ৫০ হাজার রুপি দিতে হয়। এর পাশাপাশি ৫৫ হাজার রুপি ফেরতযোগ্য জামানত জমা দিতে হয়। কর্মসূচি আয়োজনের জন্য দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের অনাপত্তিপত্রও প্রয়োজন।

ওই কর্মকর্তা জানান, মাঠের একটি অংশ ভারী যানবাহন পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি অংশ বুকিং দেওয়া হয়। ছোট অংশ আলাদাভাবে ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে ছোট সংগঠনগুলোর জন্য এখানে কর্মসূচি আয়োজন ব্যয়বহুল হতে পারে।

মাঠটিতে যন্তর মন্তরের মতো গাছপালায় ঘেরা পরিবেশও নেই। পর্যাপ্ত ছায়া না থাকায় গরমের সময় দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ করা কঠিন হতে পারে।

এমসিডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রামলীলা ময়দান ২৭ বার বুক করা হয়েছে। এদিকে, রামলীলা অনুষ্ঠান ও মেলার প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় উৎসবের মৌসুমে মাঠটি পাওয়া আরও কঠিন হতে পারে।

সিবিডি গ্রাউন্ডে যানজটের আশঙ্কা

পূর্ব দিল্লির শাহদারায় অবস্থিত সিবিডি গ্রাউন্ডের আয়তন প্রায় ১২ একর। মাঠটির দেখভাল করে দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ডিডিএ)। বিয়ে ও বড় অনুষ্ঠানের জন্য পরিচিত এই মাঠের চারপাশে আবাসিক এলাকা, বিপণিবিতান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এ কারণে এখানে বড় ধরনের বিক্ষোভ আয়োজন করা হলে যানজট ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইস্ট দিল্লি আরডব্লিউএ জয়েন্ট ফ্রন্টের প্রধান বি এস ভোহরা বলেন, আশপাশে ব্যস্ত সড়ক, আবাসিক ভবন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থাকায় মাঠটি বিক্ষোভের জন্য কতটা উপযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তার মতে, বিক্ষোভের সময় ব্যারিকেড বসানো ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হতে পারে। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় এসব ব্যবস্থা কার্যকর করা কঠিন হবে।

ডিডিএর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিবিডি গ্রাউন্ডও ভাড়ার ভিত্তিতে ব্যবহার করতে হয়। সেখানে বিনা মূল্যে বিক্ষোভ আয়োজনের সুযোগ থাকবে কি না, সে বিষয়ে দিল্লি পুলিশের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বুরারি ময়দান বড়, তবে কেন্দ্র থেকে দূরে

তিনটি বিকল্পের মধ্যে সবচেয়ে বড় বুরারি ময়দান। নিরঙ্কারি ময়দান নামেও পরিচিত এই স্থানটি উত্তর-পশ্চিম দিল্লিতে অবস্থিত। প্রায় ৫০ একর আয়তনের মাঠটি যন্তর মন্তর থেকে আনুমানিক ১৮ কিলোমিটার দূরে।

বড় আয়তনের কারণে এখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাবেশ আয়োজন করা সম্ভব। তবে রাজধানীর কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক এলাকা থেকে দূরে হওয়ায় বিক্ষোভের বার্তা নীতিনির্ধারক ও সংবাদমাধ্যমের কাছে কতটা পৌঁছাবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

২০২৪-২৫ সালের কৃষক আন্দোলনের সময়ও বুরারি ময়দানকে বিক্ষোভের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু কৃষক সংগঠনগুলো সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। তাদের অভিযোগ ছিল, জায়গাটির অবস্থান ও চারপাশের বেড়ার কারণে সেখানে আন্দোলনকারীদের সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব। এ কারণে তারা স্থানটিকে ‘খোলা কারাগার’ বলে আখ্যা দিয়েছিল।

প্রতিবাদের স্থান নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

সোহেল হাশমির মতে, বিক্ষোভের স্থান নির্ধারণের সময় শুধু কত মানুষ সেখানে জড়ো হতে পারবেন, তা বিবেচনা করা যথেষ্ট নয়। প্রতিবাদকারীরা যাদের কাছে নিজেদের দাবি পৌঁছাতে চান, তাদের কাছাকাছি থাকার সুযোগও থাকতে হবে।

তিনি মনে করেন, বিক্ষোভস্থলে সংবাদমাধ্যমের সহজে পৌঁছানোর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরাও যেন সেখানে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, সেই সুযোগ থাকা উচিত।

যন্তর মন্তরের আয়তন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সীমাবদ্ধতা থাকলেও বিকল্প তিনটি স্থানেরও আলাদা সমস্যা রয়েছে। ভাড়া, দূরত্ব, ছায়ার অভাব এবং স্থানীয় যান চলাচলের বিষয়গুলো বিক্ষোভ আয়োজনকে জটিল করতে পারে।

ফলে দিল্লিতে প্রতিবাদের নতুন স্থান নির্ধারণের বিষয়টি শুধু জায়গা বাছাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বিক্ষোভের খরচ, জনসাধারণের অংশগ্রহণ এবং সরকারের কাছে দাবি পৌঁছানোর সুযোগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

তথ্যসূত্র: প্রদত্ত সংবাদ প্রতিবেদন

Social Icons