GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / পোস্টার থেকে হেলিকপ্টার, উপজেলা নির্বাচনে যেসব প্রচারণা নিষিদ্ধ করল ইসি

পোস্টার থেকে হেলিকপ্টার, উপজেলা নির্বাচনে যেসব প্রচারণা নিষিদ্ধ করল ইসি

পোস্টার থেকে হেলিকপ্টার, উপজেলা নির্বাচনে যেসব প্রচারণা নিষিদ্ধ করল ইসি

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন বিধিমালায় পোস্টার, মিছিল-শোডাউন ও নির্বাচনি প্রচারে হেলিকপ্টার ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট প্রচারেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

সম্প্রতি ৩ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬ গেজেট আকারে জারি করা হয়।

বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার নিষিদ্ধ

নতুন আচরণবিধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার নিষিদ্ধ করা।

কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে।

মিছিল ও শোডাউন করা যাবে না

তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্য মিছিলের সুযোগ থাকবে না।

ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান ও ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোভাযাত্রাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া নির্বাচনি প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহার করা যাবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারে নিয়ম

ডিজিটাল মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে প্রচারণা শুরুর আগে প্রার্থীকে কোন কোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তথ্য দিতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণায় ব্যয় হওয়া অর্থও প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে।

এআই দিয়ে অপপ্রচারেও নিষেধাজ্ঞা

নতুন আচরণবিধিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতে বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে।

কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করতে পারবেন না।

নির্বাচনি পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারও নিষিদ্ধ। এআই ব্যবহার করে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা যাবে না।

ভোটারকে উপহার বা অর্থ দেওয়া নিষিদ্ধ

ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাদ্য, পানীয় বা উপহার দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

একই সঙ্গে ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো যাবে না। ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির ব্যবহার এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক প্রচারণাও নিষিদ্ধ থাকবে।

সরকারি সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না

কোনো প্রার্থী নির্বাচনি প্রচারে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন না।

সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বা অন্য কোনো সরকারি সম্পদ নির্বাচনি কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণের ওপরও বিধিনিষেধ থাকবে।

নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহারের সুযোগও থাকবে না।

প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে ইসি

নতুন বিধিমালায় নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাও জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।

এ ছাড়া নির্বাচনি ব্যয়সীমা অতিক্রম করা, অর্থ বা পেশিশক্তি দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে প্রচারণা চালানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

নতুন বিধিমালার মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে আরও অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করার পাশাপাশি প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

Social Icons