ভালো শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতা থাকার পরও অনেক চাকরিপ্রার্থী সাক্ষাৎকারের ডাক পান না। এর পেছনে কারণ হতে পারে সিভির কিছু সাধারণ ভুল।
গ্রামীণফোনের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার (সিএইচআরও) সৈয়দা তাহিয়া হোসেনের মতে, সিভি একজন চাকরিপ্রার্থীর প্রথম পরিচয়পত্র।
নিয়োগকর্তা প্রার্থীর সঙ্গে দেখা করার আগেই সিভি দেখেন। তাই ছোট একটি ভুলও নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে।
১. বানান ও ব্যাকরণে ভুল
সিভিতে বানান ও ব্যাকরণগত ভুল থাকা বড় একটি সমস্যা।
এতে প্রার্থীর অমনোযোগিতা ও দায়িত্বহীনতার ধারণা তৈরি হতে পারে।
তাই সিভি পাঠানোর আগে একাধিকবার রিভিশন দেওয়া জরুরি।
ছোট একটি বানান ভুলও পেশাদারিত্ব নিয়ে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।
২. অযথা লম্বা সিভি
সিভি বেশি পাতার হলেই বেশি ভালো হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়।
চার-পাঁচ পাতার সিভিতে অপ্রাসঙ্গিক তথ্য থাকলে গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা আড়ালে পড়ে যেতে পারে।
এইচআর কর্মকর্তার প্রতিটি সিভি দেখার জন্য সীমিত সময় থাকে।
তাই প্রয়োজনীয় তথ্য রেখে সিভি সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট ও তথ্যবহুল করা উচিত।
৩. সব চাকরির জন্য একই সিভি
একটি সিভি তৈরি করে সব ধরনের চাকরিতে পাঠানোও ভুল।
যে পদের জন্য আবেদন করছেন, সেই পদের দায়িত্ব ও চাহিদা অনুযায়ী সিভি সাজাতে হবে।
আগের কাজের অভিজ্ঞতা কীভাবে কাঙ্ক্ষিত পদে কাজে আসবে, সেটিও স্পষ্ট করা জরুরি।
পদের সঙ্গে অমিল থাকা তথ্যের দীর্ঘ তালিকা সিভিকে দুর্বল করতে পারে।
৪. শুধু দায়িত্বের তালিকা, অর্জন নয়
সিভিতে শুধু কী কী কাজ করেছেন, তা লিখলে প্রকৃত দক্ষতা বোঝা কঠিন।
কাজের মাধ্যমে কী অর্জন করেছেন বা প্রতিষ্ঠানে কী মূল্য যোগ করেছেন, সেটি তুলে ধরা উচিত।
সম্ভব হলে সংখ্যা ও তথ্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
যেমন, কোনো প্রকল্পে নেতৃত্ব দিয়ে কতটা উন্নতি এনেছেন বা বিক্রি কত শতাংশ বাড়িয়েছেন, তা উল্লেখ করা যেতে পারে।
কতজনের দল পরিচালনা করেছেন, সেটিও দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা যায়।
৫. অগোছালো ডিজাইন ও তথ্যের উপস্থাপনা
সিভির ডিজাইনও প্রার্থীর পেশাদারিত্বের অংশ।
অতিরিক্ত ফন্ট, এলোমেলো ডিজাইন ও অস্পষ্ট তথ্য সিভির মান কমিয়ে দিতে পারে।
তাই পরিষ্কার ও সহজে পড়া যায় এমন ফরম্যাট ব্যবহার করা ভালো।
সিভির উদ্দেশ্য শুধু ডিজাইন দিয়ে নজর কাড়া নয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়োগকর্তার কাছে সহজে তুলে ধরাই মূল বিষয়।
৬. যোগাযোগের তথ্যে ভুল
ফোন নম্বর বা ই-মেইল ঠিকানা ভুল হলে নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নষ্ট হতে পারে।
অপেশাদার ই-মেইল আইডিও নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে।
তাই সিভি পাঠানোর আগে যোগাযোগের সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, ভালো সিভিতে কম কথায় নিজের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অর্জন তুলে ধরা উচিত।
বানান ভুল, অপ্রাসঙ্গিক তথ্য, পদের সঙ্গে অমিল, অর্জনের বদলে শুধু দায়িত্বের তালিকা, অগোছালো উপস্থাপনা ও ভুল যোগাযোগের তথ্য সিভির সুযোগ নষ্ট করতে পারে।
তাই আবেদন পাঠানোর আগে নিজের সিভিটি একবার নিয়োগকর্তার দৃষ্টিতে দেখে নেওয়া জরুরি।


