GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / লাইফ স্টাইল / প্রস্রাব পরীক্ষা করেই মূত্রথলির ক্যানসার! ২৩ জিনের ৪৫০ মিউটেশন শনাক্তের দাবি

প্রস্রাব পরীক্ষা করেই মূত্রথলির ক্যানসার! ২৩ জিনের ৪৫০ মিউটেশন শনাক্তের দাবি

প্রস্রাব পরীক্ষা করেই মূত্রথলির ক্যানসার! ২৩ জিনের ৪৫০ মিউটেশন শনাক্তের দাবি

সিস্টোস্কোপির মতো অস্বস্তিকর পরীক্ষা ছাড়াই মূত্রথলির ক্যানসার শনাক্তের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ‘গ্যালিয়াস টেস্ট’ নামে একটি প্রস্রাব পরীক্ষা নিয়ে কাজ করছেন, যা প্রাথমিক পর্যায়েই মূত্রথলির ক্যানসার শনাক্ত করতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে মূত্রথলির ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ, ডায়াবেটিস কিংবা কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি হতে পারে। প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া বা প্রস্রাবের রং লাল, গোলাপি কিংবা গাঢ় বাদামি হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সিস্টোস্কোপির বিকল্প কেন প্রয়োজন?

মূত্রথলির ক্যানসার শনাক্তে বর্তমানে প্রচলিত পরীক্ষাগুলোর মধ্যে সিস্টোস্কোপি অন্যতম। এ পরীক্ষায় একটি বিশেষ যন্ত্র মূত্রনালির মাধ্যমে মূত্রথলিতে প্রবেশ করিয়ে ভেতরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

তবে এই প্রক্রিয়া অনেকের জন্য অস্বস্তিকর ও যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। তাই তুলনামূলক সহজ ও কম অস্বস্তিকর পরীক্ষার বিকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে।

কীভাবে কাজ করবে গ্যালিয়াস টেস্ট?

গবেষকদের মতে, মূত্রথলিতে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি হলে শরীরে বিশেষ কিছু প্রোটিন তৈরি হয়। এসব প্রোটিন প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে বের হয়ে আসে।

গ্যালিয়াস টেস্টে প্রস্রাবের নমুনা বিশ্লেষণ করে এসব প্রোটিন শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত নির্দিষ্ট জিনের পরিবর্তনও খুঁজে দেখা হবে।

গবেষকদের দাবি, পরীক্ষাটিতে ২৩টি জিনের প্রায় ৪৫০ ধরনের মিউটেশন বা জেনেটিক পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

এর ফলে শুধু মূত্রথলিতে ক্যানসার রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করার পাশাপাশি রোগটি কতটা গুরুতর এবং শরীরে কতটা ছড়িয়ে পড়েছে, সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।

কতটা সফল হয়েছে নতুন পরীক্ষা?

ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের এক হাজারের বেশি মানুষের ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্যালিয়াস টেস্টের কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলকে সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেছেন গবেষকেরা। তাদের দাবি, পরীক্ষাটি অন্তত ৯২ শতাংশ ক্ষেত্রে মূত্রথলির ক্যানসার সঠিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্যালিয়াস টেস্ট এখনো গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে রয়েছে। তাই এটি সিস্টোস্কোপির সম্পূর্ণ বিকল্প হিসেবে নিয়মিত চিকিৎসায় কবে ব্যবহার করা যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

আরও গবেষণা ও পরীক্ষার ফল যাচাইয়ের পরই এর কার্যকারিতা এবং বাস্তব চিকিৎসায় ব্যবহারের উপযোগিতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে।

প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত দেখা গেলে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্রাবের সমস্যা থাকলে নিজে থেকে ক্যানসারের সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Social Icons