বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো আইনি বা নীতিগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুরোপুরি জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে আইনি বা নীতিগত কোনো বাধা নেই।
বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবির প্রতিও সমর্থন জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা প্রয়োজন। তার মতে, এ দাবি আজ হোক বা আগামীতে, বাস্তবায়ন হবেই।
তিনি আরও বলেন, দেশে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, পেনশন ও মর্যাদা বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগ অতীতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ও শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়িত হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জাতীয়করণে অতিরিক্ত ব্যয়ের হিসাব
জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়নে শিক্ষকদের বড় পরিসরে কর্মসূচি নেওয়ার পরামর্শ দেন মীর শাহে আলম। তিনি জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে বছরে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।
তিনি বলেন, শিক্ষকরা সুশৃঙ্খল ও বড় পরিসরে জাতীয় সমাবেশ করে গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি তুলে ধরলে সরকার বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুতের উদ্যোগ
সম্মেলনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের ছাদে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্যানেল স্থাপন করা যাবে।
মীর শাহে আলমের দাবি, এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সহায়তা হবে। পাশাপাশি ছুটির দিন ও অতিরিক্ত সময়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানগুলো মাসে প্রায় ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবে।
তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ফলে একদিকে প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যয় ও চাহিদা সামলানো যাবে, অন্যদিকে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষক এমন একটি পেশা, যার মাধ্যমে অন্য সব পেশার মানুষ তৈরি হয়। তাই সমাজ ও রাষ্ট্রে শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।









