দেশে মাদকবিরোধী অভিযান চললেও মূল কারবারি ও গডফাদারদের অনেকেই এখনো আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে ইয়াবা বা অন্যান্য মাদকসহ খুচরা বাহক ও বিক্রেতারা গ্রেফতার হলেও নেপথ্যে থাকা অর্থদাতা, পাইকারি সরবরাহকারী ও বড় কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, হত্যাকাণ্ড ও অপরাধের ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত হন। রাজশাহী ও গাজীপুরেও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও স্থানীয় একটি মাদক সিন্ডিকেটের ইন্ধনের বিষয়টি সামনে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে ক্ষোভ থেকেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের এক সূত্র জানিয়েছে, সারাদেশের মাদক গডফাদারদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতির কারণে সেই তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা নেই এবং তারা নিজেরা মাদক বহন বা সংরক্ষণ করেন না। ফলে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করাই বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্রটি আরও জানায়, এসব ব্যক্তির বিষয়ে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চলছে এবং ভবিষ্যতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানের কথাও জানিয়েছেন।
তবে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুলসংখ্যক খুচরা বিক্রেতা ও বাহক গ্রেফতার হলেও আন্তর্জাতিক বা পাইকারি পর্যায়ের সরবরাহকারী এবং অর্থদাতাদের অনেকেই ধরা পড়ছেন না। কারণ, বড় কারবারিরা সাধারণত সরাসরি মাদক বহন বা সংরক্ষণ করেন না। নেপথ্যে থেকে অন্যদের মাধ্যমে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করায় তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার সূত্রাপুর এলাকায় আদালতের জব্দ করা মাদক ধ্বংসের দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কনস্টেবলকে ১ হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। মাদক বিক্রির সময় তাকে আটক করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ২৪ আগস্ট ডিএমপির পল্লবী থানার এক এএসআইসহ দুজনকে ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাৎ হোসাইন জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গা থেকে মাদক উদ্ধার করা হচ্ছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো মাদক সিন্ডিকেট যত শক্তিশালীই হোক, সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









