GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সারাদেশ / সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বিভাজন নয়, সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহদী আমিন

সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বিভাজন নয়, সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহদী আমিন

ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, বরং সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র, সরকার ও সমাজের কাছ থেকে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও স্বাধীনতা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মহালয়া ১৪৩৩’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সমঅধিকারের ওপর গুরুত্ব

মাহদী আমিন বলেন, ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিন্নতা থাকলেও দেশের নাগরিকদের অভিন্ন পরিচয় বাংলাদেশি। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ যেন বৈষম্য বা বিভেদের শিকার না হন, সেই পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি মানুষ যেন স্বাধীনভাবে, মাথা উঁচু করে এবং সমান মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারেন। একই সঙ্গে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহালয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, মহালয়া নতুন আশার বার্তা দেয়। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয় এবং অন্ধকার পেরিয়ে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়াই এ উৎসবের অন্যতম তাৎপর্য।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে সত্য, ন্যায় ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

পূজার বরাদ্দ ও ছুটি বৃদ্ধি

মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দুর্গাপূজার সরকারি ছুটিও বাড়ানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, শারদীয় দুর্গোৎসব দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্বপূর্ণ বন্ধন। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, এমন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে বিদ্বেষের পরিবর্তে ভালোবাসা, বৈষম্যের পরিবর্তে ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’—ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি এ দেশের জনগণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার দৃঢ়তাই দেশের অগ্রযাত্রার চালিকাশক্তি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সার্বিক জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়। দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের আয়োজনের প্রশংসা করে মাহদী আমিন গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সার্বিক কল্যাণ এবং শারদীয় দুর্গোৎসবের সাফল্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী তপন কান্তি মজুমদার এবং গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শ্রী অলোক সাহা ও সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিনয় গোপাল রায়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Social Icons