সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নিহতরা হলেন মো. শাহেদ আহম্মদ ও মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। এ ঘটনায় আরও ২৪ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সৌদি আরবে কর্মরত ব্যক্তি এবং ওমরাহ পালন করতে যাওয়া যাত্রীরাও রয়েছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আহত বাংলাদেশিরা রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
নিহত শাহেদ আহম্মদের বাড়ি বগুড়ায়
নিহত মো. শাহেদ আহম্মদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তাঁর বাবা মো. রফিকুল ইসলাম এবং মা শাহেরা বেগম।
শাহেদ সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর সৌদি আরবে বৈধ ইকামা ছিল। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটি কাটিয়ে দেশে এসেছিলেন তিনি। পরে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় নিজের কর্মস্থলে ফেরার পথে বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় প্রাণ হারান।
ওমরাহ করতে গিয়ে নিহত নাসরুল্লাহ
অন্য নিহত বাংলাদেশি মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরির বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তাঁর বাবা মোহাম্মদ উল্লাহ এবং মা জাহানারা বেগম।
নাসরুল্লাহ ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করার সময় হামলার ঘটনায় তিনি নিহত হন।
হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশি
রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্যের বরাত দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। বাকি ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে গিয়েছিলেন।
আহতদের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
রিয়াদ বিমানবন্দরে আটকা পড়েন প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি
হামলার পর বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকা পড়েন। তাঁদের মধ্যে সৌদি আরবে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ব্যক্তি, ওমরাহ পালন করতে যাওয়া যাত্রী এবং সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা ছিলেন।
বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এসব যাত্রীর যাত্রাসূচিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আটকে পড়া বাংলাদেশিদের পরিস্থিতি ও পরবর্তী যাত্রার বিষয়ে হালনাগাদ তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন।
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যু এবং আরও ২৪ জনের আহত হওয়ার ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের সহায়তায় দূতাবাসের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।









