GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / ক্যাম্পাস / অপ্রতিম হত্যার তদন্তে কিশোর গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য

অপ্রতিম হত্যার তদন্তে কিশোর গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য

অপ্রতিম হত্যার তদন্তে কিশোর গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তুহিন ও ফাহাদের পূর্বপরিকল্পনার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার মোবাইলে আসা কয়েকটি কলের সূত্র ধরে আরও দুই কিশোরের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।

আইফোন ও টাকা নিয়ে বিরোধের তথ্য

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্তে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। অপ্রতিমের কাছ থেকে ফাহাদের নেওয়া ৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে বিরোধ ছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ফাহাদ অপ্রতিমের কাছ থেকে ওই টাকা ধার নিয়েছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল কি না এবং সেটি হত্যাকাণ্ডে কোনো ভূমিকা রেখেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কিশোর গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য

তদন্তের পাশাপাশি স্থানীয় ‘কোটবাড়ি বাইকার্স গ্রুপ’ নামে একটি কিশোর গোষ্ঠীর সঙ্গে অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্টতার তথ্যও সামনে এসেছে।

প্রতিবেদকের হাতে থাকা কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও ভিডিওতে ফাহাদ ও কামরুলকে ওই গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো তদন্তাধীন।

তুহিনের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগ

প্রধান আসামি তুহিনের বিরুদ্ধে এর আগে বন্ধুর মোটরসাইকেল নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল। ২০২৫ সালে এ ঘটনায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল রাতে কুমিল্লার সালমানপুরে একটি দোকানের সামনে থেকে মোটরসাইকেলটি তুহিন নিয়ে যান এবং পরে সেটি ফেরত দেওয়া হয়নি।

অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায় সিসিটিভিতে

তদন্তে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমকে হাঁটতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তারা একটি অটোরিকশায় করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে যান।

অন্যদিকে, ফাহাদ অপ্রতিমের বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের মোবাইল সরঞ্জাম ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ডেলিভারিম্যান হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তিনি মাসিক ১৪ হাজার টাকা বেতনে সেখানে যোগ দেন বলে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

তদন্তে ফাহাদ ও কামরুলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাহাদের অ্যাকাউন্টে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছবি এবং স্থানীয় কিশোর গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে ছবি পাওয়া গেছে।

পুলিশ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অপ্রতিম হত্যার প্রকৃত কারণ, হত্যার পরিকল্পনায় কারা জড়িত ছিল এবং প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমানে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা, ৫ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধ এবং অভিযুক্তদের কথিত কিশোর গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় রয়েছে।

Social Icons