GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / ধর্ম ও সমাজ / ইসলামের দৃষ্টিতে বাস্তবতা, করণীয় ও প্রতিকার

ইসলামের দৃষ্টিতে বাস্তবতা, করণীয় ও প্রতিকার

ইসলামে বদনজর (নজর লাগা) কোনো কুসংস্কার নয়; বরং এটি কোরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত একটি বাস্তব বিষয়। মানুষের হিংসা, ঈর্ষা বা বিস্ময়ভরা দৃষ্টির কারণে আল্লাহর ইচ্ছায় কারও ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। তাই একজন মুসলিমের উচিত বদনজরের বাস্তবতা বিশ্বাস করা, তবে এ নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা।

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বদনজরের কারণে রুকইয়াহ (ঝাড়ফুঁক) করার নির্দেশ দিতেন। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

আরেক হাদিসে হজরত আসমা বিনতে উমাইস (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, জাফর (রা.)-এর সন্তানদের খুব বদনজর লাগে, তাদের জন্য কি রুকইয়াহ করা যাবে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, “হ্যাঁ। যদি কোনো কিছু তাকদিরকে অতিক্রম করতে পারত, তবে বদনজরই তা করতে পারত।” (জামে তিরমিজি)

এছাড়া হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, নবী করিম (সা.) বলেছেন, “আমার উম্মতের মধ্যে তাকদিরের পর সবচেয়ে বেশি মানুষ বদনজরের কারণে মৃত্যুবরণ করে।” (মুসনাদে বাযযার)

এসব হাদিস থেকে বোঝা যায়, বদনজর মানুষের জীবনে অসুস্থতা, দুর্বলতা কিংবা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই নিজের বা পরিবারের কোনো নিয়ামত, সফলতা বা সুখবর অযথা সবার সামনে প্রকাশ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী সংযত থাকা উত্তম।

বদনজর থেকে বাঁচার সুন্নতি আমল

রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের বদনজর থেকে সুরক্ষার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া শিখিয়েছেন।

১. জিবরাইল (আ.) রাসুল (সা.)-এর জন্য যে রুকইয়াহ করতেন:

بِاسْمِ اللّٰهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللّٰهُ يَشْفِيكَ، بِاسْمِ اللّٰهِ أَرْقِيكَ

অর্থ: আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি। যেকোনো কষ্টদায়ক বিষয়, প্রত্যেক হিংসুক ব্যক্তি ও বদনজরের অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ আপনাকে সুস্থতা দান করুন। আল্লাহর নামেই আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি।

২. শিশুদের জন্য রাসুল (সা.)-এর দোয়া:

أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ

অর্থ: আমি তোমাদের আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর বদনজর থেকে।

এছাড়াও নিয়মিত সুরা ফালাকসুরা নাস তিলাওয়াত করা, সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির করা এবং নিচের দোয়াগুলো পড়া অত্যন্ত উপকারী—

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর আশ্রয় চাই, তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তার সব অনিষ্ট থেকে।

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ، وَمِنْ شَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ

অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর আশ্রয় চাই তাঁর ক্রোধ, শাস্তি, বান্দাদের অনিষ্ট, শয়তানের কুমন্ত্রণা এবং তাদের উপস্থিতির অনিষ্ট থেকে।

حَسْبِيَ اللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ

অর্থ: আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি, আর তিনিই মহান আরশের রব।

উপসংহার

ইসলাম আমাদের বদনজরের বাস্তবতা স্বীকার করতে শিক্ষা দেয়, কিন্তু অন্ধবিশ্বাস বা কুসংস্কারে জড়াতে নয়। একজন মুমিনের করণীয় হলো আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রাখা, নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত, মাসনুন দোয়া ও জিকির করা এবং প্রয়োজনে শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ গ্রহণ করা। আল্লাহই সর্বোত্তম রক্ষাকারী, তাঁরই কাছে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত।

Social Icons