GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / রাজনীতি / রাষ্ট্র সংস্কারের চেতনা থেকে সরে সরকার

রাষ্ট্র সংস্কারের চেতনা থেকে সরে সরকার

বাংলাদেশে রাষ্ট্র সংস্কার বিষয়ক আলোচনা ও কমিশন কার্যক্রমের প্রতীকী চিত্র

রাষ্ট্র সংস্কারের চেতনা থেকে সরকার অনেকটা সরে এসেছে—টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এমন মূল্যায়ন দিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শুরুর তিন এজেন্ডা: বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার, নির্বাচন

বাংলাদেশে রাষ্ট্র সংস্কার বিষয়ক আলোচনা ও কমিশন কার্যক্রমের প্রতীকী চিত্র

গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার মূলত তিনটি এজেন্ডাকে সামনে আনে—বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার এবং নির্বাচন। এর মধ্যে রাষ্ট্র সংস্কারকে তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে দেখেন। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের পর মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল এমন রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থা গড়া, যেখানে জবাবদিহি নিশ্চিত হয়।

কমিশন গঠন শুরুতে ইতিবাচক, তবে বিতর্ক ছিল

শুরুর উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। প্রথমে ছয়টি এবং পরে আরও পাঁচটি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছিল। তার ভাষায়, এটি ছিল সুচিন্তিত একটি পদক্ষেপ। কিন্তু শুরু থেকেই কিছু প্রশ্নও উঠেছিল। কমিশন গঠনে নানা শ্রেণি, পেশা ও সামাজিক গোষ্ঠীর পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব ছিল না। নারীদের অংশগ্রহণও সীমিত ছিল; আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম।

কোন বিষয় বাদ পড়ল—সে নিয়ে প্রশ্ন

প্রথম ছয়টি কমিশন সরাসরি রাষ্ট্র সংস্কারের মূল বিষয়ে কাজ করলেও পরে যুক্ত হওয়া কমিশনগুলো নিয়ে দিক নির্ধারণে প্রশ্ন তৈরি হয়। কোন খাত অন্তর্ভুক্ত হবে, আর কোনগুলো বাদ পড়বে—সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই বিতর্ক ছিল। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, শিক্ষা খাত জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রেক্ষাপট হলেও শিক্ষা নিয়ে আলাদা কোনো কমিশন গঠন করা হয়নি। একইভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য—যেটি স্বৈরশাসনামলে বড়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ—সেটিও যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।

কাজের মান মোটের ওপর ভালো, কিন্তু প্রত্যাশা পূরণে ঘাটতি

সবকিছু বিবেচনায় তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের সার্বিক সূচনা হিসেবে এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখতে হবে। কমিশনগুলোর কাজও মোটামুটি ভালো হয়েছে—প্রতিটি কমিশনের প্রতিবেদনে বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও মূল্যবান সুপারিশ রয়েছে। অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে জরিপও পরিচালিত হয়েছে। অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক থাকলেও রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য এটিকে তিনি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবেই দেখেন।

তবে ইফতেখারুজ্জামান যে কথাটি জোর দিয়ে বলেছেন, তা হলো—সময় যত গড়িয়েছে, সংস্কারের চেতনা থেকে সরকার অনেকটা সরে এসেছে। ফলে রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবের ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

রাষ্ট্র সংস্কারের চেতনা থেকে সরে যাওয়ার কথা বললেন কেন?
তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সময়ের উদ্যোগ শুরুতে ইতিবাচক হলেও পরের পর্যায়ে প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ঘাটতি দেখা গেছে।

কমিশন গঠন নিয়ে প্রধান সমালোচনায় কী ছিল?
প্রতিনিধিত্বের সীমাবদ্ধতা এবং কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে—সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল।

কমিশনগুলোর কাজ কি পুরোপুরি ব্যর্থ ছিল?
না। প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ, সুপারিশ এবং অংশীজন মতামত নেওয়ার মতো ইতিবাচক চিত্রও ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons