GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / বাণিজ্য / গত দুই দশকে কেইপিজেডে বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগ বেড়েছে ৪১২ গুণ

গত দুই দশকে কেইপিজেডে বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগ বেড়েছে ৪১২ গুণ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (কেইপিজেড) গত দুই দশকে বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে; যেখানে বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪১২ গুণ।

বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে মাত্র ১ দশমিক ৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা কেইপিজেডে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৭ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

কর্ণফুলী ইপিজেডের ২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের মোট ২৫৮টি শিল্প প্লটের মধ্যে বর্তমানে ৪০টি বড়, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান সক্রিয় উৎপাদনে রয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি সম্পূর্ণ বিদেশি, ৩টি যৌথ বিনিয়োগের এবং ৮টি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মালিকানাধীন। এ ছাড়া ৪৯ হাজার ৭৯৮ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে আরও পাঁচটি নতুন কারখানার নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ, চীন, তাইওয়ান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের ১৪টি দেশের উদ্যোক্তারা কেইপিজেডে তাদের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

২০০৬ সালে স্থাপিত এই অঞ্চল থেকে ২০০৭ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্য রপ্তানি শুরু হয়। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে প্রথম বছরের রপ্তানি আয় মাত্র ৯.৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হলেও, প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত আগস্ট পর্যন্ত কেইপিজেড থেকে সর্বমোট ১৪ হাজার ১৫৬ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য বিশ্বের বাজারে রপ্তানি হয়েছে।

বিগত পাঁচ অর্থবছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:

  • ২০২১-২২: ১,৪৪৮.৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • ২০২২-২৩: ১,৮৮৫.৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • ২০২৩-২৪: ১,০১৮.৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • ২০২৪-২৫: ১,২৫৯.৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
  • ২০২৫-২৬: ১,২৩০.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার

সাধারণ তৈরি পোশাকের বাইরে বিশ্বখ্যাত প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের উচ্চমূল্যের তাঁবু, ক্যাম্পিং সরঞ্জাম, হাই-টেক বাইসাইকেল, চামড়াজাত সামগ্রী, আসবাবপত্র, ফ্যাশন ওয়্যার ও সেফটি জুতার মতো বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদনের অন্যতম হাব-এ পরিণত হয়েছে কেইপিজেড। এখান থেকে বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৯১ সালের ভয়াবহ প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও ধারাবাহিক লোকসানের মুখে ১৯৯৮ সালে বন্ধ হয়ে যায় চট্টগ্রাম স্টিল মিলস লিমিটেড (সিএসএমএল)। পরবর্তীতে পতেঙ্গার এই প্রাণহীন ও পরিত্যক্ত জমিতে বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তৎকালীন বিএনপি সরকার। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থিতিতে উদ্বোধনের মাধ্যমে কেইপিজেড পতেঙ্গা শিল্পাঞ্চলকে পুনরায় নতুন অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করে।

Social Icons