ফ্যামিলি অ্যালবামের পুরোনো এক ফ্রেমে গোলগাল চেহারার যে ছোট্ট শিশুটি ক্যামেরার দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে উদাস ভঙ্গিতে তাকিয়ে ছিল, কে জানত সেই নিষ্পাপ মেয়েটিই একদিন নিজের সৌন্দর্য ও অভিনয়নৈপুণ্য দিয়ে পুরো বলিউড কাঁপিয়ে তুলবে।
তিনি আর কেউ নন, ভারতীয় চলচ্চিত্রের ঐতিহ্যবাহী কাপুর পরিবারের যোগ্য উত্তরসূরি ও জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খান।
দাদা রাজ কাপুর এবং বাবা রণধীর কাপুরের হাত ধরে চলচ্চিত্রে পরিবারের সুদৃঢ় অবস্থান থাকলেও কারিনার পথচলা শুরু থেকেই সহজ ছিল না; পারিবারিক পরিচয়ের বাইরে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়তে শুরু থেকেই ছিলেন মরিয়া।
২০০০ সালে জে. পি. দত্তের ‘রিফিউজি’ সিনেমার মাধ্যমে রূপালী পর্দায় পা রেখেই সেরা নবাগত হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতে নিজের আগমনী বার্তা জানান দেন তিনি।
পরের বছরই করণ জোহরের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘কভি খুশি কভি গম’-এ ‘পূজা’ ওরফে ‘পু’ চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি তারকাখ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে যান এই অভিনেত্রী।
শুধু গ্ল্যামারাস চরিত্রের গণ্ডিতে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে ২০০৪ সালে ‘চামেলি’ চলচ্চিত্রে একজন যৌনকর্মীর চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের তাক লাগিয়ে দেন; যার ধারাবাহিকতায় ‘ওমকারা’ ও ‘দেব’-এর মতো সিনেমায় তার অভিনয় ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।
২০০৭ সালে রোমান্টিক কমেডি ‘জব উই মেট’-এ তার চঞ্চল ও প্রাণবন্ত ‘গীত’ চরিত্রটি হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হয়ে রয় এবং এ ছবির মাধ্যমে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে ফিল্মফেয়ার অর্জন করেন কারিনা।
পরবর্তীতে ৭৭ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪০০ কোটি রুপি আয় করা ‘থ্রি ইডিয়টস’ এবং ‘তাশন’ সিনেমায় তার আইকনিক ‘জিরো ফিগার’ লুক পুরো ভারতজুড়ে ব্যাপক ফ্যাশন ট্রেন্ড তৈরি করে।
ক্যারিয়ারের স্বর্ণালী সময়ে ২০১২ সালে অভিনেতা সাইফ আলী খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর অনেকেই তার ক্যারিয়ারের শেষ দেখে ফেললেও, গর্ভাবস্থায় শুটিং চালিয়ে গিয়ে এবং পরবর্তীতে তৈমুর ও জেহ—দুই সন্তানের মা হয়েও পর্দায় নিজের দাপট বজায় রেখেছেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়েও ‘ক্রু’, ‘জানে জান’ এবং ‘দ্য বাকিংহাম মার্ডার্স’-এর মতো বৈচিত্র্যময় ও থ্রিলারধর্মী চলচ্চিত্রে অভিনয় করে প্রতিনিয়ত নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করে চলেছেন বলিউডের এই গ্ল্যামার কুইন।
