GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সারাদেশ / ছবি তোলার প্রলোভনে পাহাড়ে, অপ্রতিম হত্যার নেপথ্যে যা

ছবি তোলার প্রলোভনে পাহাড়ে, অপ্রতিম হত্যার নেপথ্যে যা

ছবি তোলার প্রলোভনে পাহাড়ে, অপ্রতিম হত্যার নেপথ্যে যা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হত্যার রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পাওয়া বিভিন্ন তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

দুপুরে পুলিশের সংবাদ সম্মেলন

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার কথা জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, ঘটনার বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে। এর আগে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক ক্লু পাওয়া গেছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রাথমিক তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে—এমন বিষয় সামনে এসেছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের ভূমিকা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের পরই স্পষ্ট হবে।

ছবি তোলার কথা বলে পাহাড়ে নেওয়ার তথ্য

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে ছবি তোলার কথা বলে অপ্রতিমকে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় তুহিন নামের এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। তার সঙ্গে আনাছসহ আরও কয়েকজনের উপস্থিতির তথ্যও তদন্তে এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রের দাবি, পাহাড়ি এলাকায় অপ্রতিমকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে তার আইফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে লাশ ফেলে পালিয়ে যায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা। তবে এসব তথ্য এখনো তদন্তাধীন এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে।

মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোটবাড়ি-সালমানপুর এলাকার মাদক সিন্ডিকেট ও কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, সেটিও তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে প্রায় এক মাস কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাদক সেবনের অভিযোগে কয়েকজন কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় অপ্রতিমের লাশ

শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি।

পরিবারের পক্ষ থেকে সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর পুলিশ তার সন্ধানে তৎপর হয়। বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্ত শুরু করা হয়।

প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তুহিনসহ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, পিবিআই ও এসআরবি তদন্তে কাজ করছে।

বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। তারা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

নিহত অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম বলেন, কী কারণে তার একমাত্র ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে, তিনি জানেন না। তিনি হত্যাকারীদের বিচার চান।

Social Icons