ডায়াবেটিস থাকলে কী খাবেন আর কী খাবেন না, তা নিয়ে অনেকেরই দ্বিধা থাকে। বিশেষ করে শুকনো ফল বা ড্রাই ফ্রুটস খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। পরিমিত পরিমাণে এবং সঠিক ধরনের শুকনো ফল বেছে নিলে এটি খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। তবে শুকনো ফলে পানির পরিমাণ কম থাকায় অল্প পরিমাণেই তুলনামূলক বেশি ক্যালরি ও প্রাকৃতিক চিনি পাওয়া যায়।
কতটা শুকনো ফল খাওয়া যেতে পারে?
ডায়াবেটিস থাকলে একসঙ্গে বেশি শুকনো ফল না খেয়ে অল্প পরিমাণে খাওয়াই ভালো। প্রতিবেদনে কিছু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ হিসেবে ২–৩ টুকরো বা অল্প এক মুঠো দিয়ে শুরু করার কথা বলা হয়েছে।
তবে উপযুক্ত পরিমাণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। রক্তে শর্করার মাত্রা, ওষুধ, দৈনিক খাবারের ধরন এবং শারীরিক অবস্থার ওপর তা নির্ভর করে।
কোন শুকনো ফল বেছে নিতে পারেন?
আখরোট
আখরোটে ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত ফ্যাট রয়েছে। এটি পেট ভরা রাখতে এবং খাবারের মাঝখানে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
বাদাম
বাদামে ফাইবার, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রয়েছে। পরিমিত পরিমাণে বাদাম খেলে খাবারের পুষ্টিমান বাড়ানো এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে।
কিশমিশ
কিশমিশে প্রাকৃতিক চিনি ঘনভাবে থাকে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে এটি অল্প পরিমাণে খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বেশি কিশমিশ খেলে মোট কার্বোহাইড্রেট ও চিনি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে।
শুকনো এপ্রিকট
শুকনো এপ্রিকটে ফাইবার ও বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট রয়েছে। তবে এতে অন্যান্য শুকনো ফলের মতোই প্রাকৃতিক চিনি ঘন থাকে। তাই পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে খাওয়া উচিত।
তাজা ফল নাকি শুকনো ফল?
ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে পুরো তাজা ফল খাদ্যতালিকায় রাখা তুলনামূলক সহজ। কারণ তাজা ফলে পানির পরিমাণ বেশি থাকে এবং একই পরিমাণ খাবারে চিনি তুলনামূলক কম ঘন থাকে।
অন্যদিকে শুকনো ফলের পানি কমে যাওয়ায় অল্প পরিমাণেই বেশি কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ হয়ে যেতে পারে। তাই শুকনো ফলকে তাজা ফলের বিকল্প হিসেবে বেশি পরিমাণে না খেয়ে পরিমিত অংশ হিসেবে রাখা ভালো।
কেনার সময় সতর্ক থাকুন
সব শুকনো ফল একই ধরনের নয়। বাজারের কিছু ড্রাই ফ্রুটসে অতিরিক্ত চিনি বা সিরাপ যোগ করা থাকতে পারে। তাই সম্ভব হলে চিনি বা সিরাপ ছাড়া শুকনো ফল বেছে নেওয়া উচিত।
প্যাকেটজাত পণ্য কেনার সময় কার্বোহাইড্রেট ও মোট চিনির পরিমাণ দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডায়াবেটিস থাকলেও শুকনো ফল একেবারে নিষিদ্ধ নয়। তবে এটি তুলনামূলকভাবে চিনি ও ক্যালরিতে ঘন হওয়ায় অল্প পরিমাণে এবং হিসাব করে খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিন ব্যবহার করলে, কিংবা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা থাকলে, নিয়মিত শুকনো ফল খাওয়ার পরিমাণ নির্ধারণের আগে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া ভালো।








