GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / লাইফ স্টাইল / টক্সিক সম্পর্কে ভুক্তভোগী কেন নিজেই টক্সিক হয়ে ওঠেন

টক্সিক সম্পর্কে ভুক্তভোগী কেন নিজেই টক্সিক হয়ে ওঠেন

টক্সিক সম্পর্ক বলতে এমন সম্পর্ককে বোঝায়, যেখানে একজন ব্যক্তির আচরণ, কথাবার্তা বা মানসিকতা অন্য ব্যক্তির মানসিক শান্তি, আত্মবিশ্বাস ও সুখ নষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘদিন এমন সম্পর্ক বা পরিবেশে থাকলে শুধু ভুক্তভোগীর জীবনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, তার আচরণেও নেতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

মনস্তত্ত্বের ভাষায়, দীর্ঘদিন টক্সিক পরিস্থিতিতে থাকা মানুষের মধ্যে এমন পরিবর্তনকে ‘সারভাইভাল মেকানিজম’ বা টিকে থাকার লড়াই হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে ভুক্তভোগী নিজেও অন্যদের প্রতি ক্ষতিকর বা টক্সিক আচরণ করতে পারেন।

যে কারণে ভুক্তভোগী নিজেই টক্সিক আচরণ করেন

আক্রমণাত্মক মোড: দীর্ঘদিন টক্সিক পরিবেশে থাকা মানুষকে অন্যায়, অবহেলা বা মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তখন নিজেকে রক্ষা করতে তার মধ্যে এক ধরনের ডিফেন্সিভ মেকানিজম তৈরি হতে পারে। ফলে কেউ স্বাভাবিক কোনো কথা বললেও তিনি সেটিকে নিজের প্রতি আক্রমণ বা অপমান হিসেবে মনে করতে পারেন।

আচরণের পুনরাবৃত্তি: পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সঙ্গী কিংবা কর্মক্ষেত্রে নিয়মিত চিৎকার-চেঁচামেচি বা নানা ধরনের নেতিবাচক আচরণ দেখতে দেখতে সেগুলো অনেকের কাছে স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে। একপর্যায়ে তিনি নিজেও অন্যদের সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করতে শুরু করতে পারেন।

ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ: দীর্ঘদিন কারও কাছ থেকে পাওয়া মানসিক কষ্ট ও ক্ষোভ জমে থাকলে হতাশা তৈরি হতে পারে। পরে সুযোগ পেলে সেই জমে থাকা ক্ষোভ নির্দোষ মানুষের ওপরও প্রকাশ করতে পারেন কেউ কেউ।

ভুক্তভোগী টক্সিক হলে আপনার করণীয়

সহযোগিতার হাত বাড়ান: টক্সিক পরিস্থিতির শিকার ব্যক্তি অনেক সময় কাছের মানুষই হন। তাই তাকে মানসিকভাবে সহযোগিতা করা গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতেই সম্পর্ক নষ্ট করার চিন্তা না করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা যেতে পারে। তবে সেই চেষ্টা সফল না হলে নিজের সুরক্ষার জন্য সীমারেখা নির্ধারণের প্রয়োজন হতে পারে।

সম্পর্কের সীমারেখা তৈরি করুন: অনেকেই মনে করেন, পরিস্থিতির শিকার একজন মানুষকে ভালোবাসা, যত্ন ও সহানুভূতি দিয়ে বদলে দেওয়া সম্ভব। এই চেষ্টা করতে গিয়ে অনেকে নিজের মানসিক সুস্থতা ও শান্তি হারিয়ে ফেলেন

দীর্ঘদিন টক্সিক মানুষের সঙ্গে থাকলে বিষণ্নতা, মানসিক ট্রমা এবং আত্মবিশ্বাস হারানোর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পর্কের ক্ষেত্রে সীমারেখা তৈরি করা জরুরি। মনে রাখা দরকার, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে সব ধরনের মানসিক সমস্যার সমাধানের দায়িত্ব নিজের ওপর নেওয়া উচিত নয়।

নিজের মানসিক ভারসাম্য রক্ষা করুন: অন্যের মানসিক চাপ বা নেতিবাচক আবেগ সবসময় নিজের সঙ্গে বহন করতে থাকলে নিজের জন্য সময় ও ইতিবাচক শক্তি কমে যেতে পারে। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে নিজের মানসিক সুস্থতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

টক্সিসিটির চেইন ভাঙুন: টক্সিক আচরণ করা মানুষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রাখলে তিনি নিজের আচরণ নিয়ে ভাবার সুযোগ পেতে পারেন। এতে সমস্যার কারণ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নিজেকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় সীমারেখা তৈরি করা স্বার্থপরতা নয়। নিজের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নিজের ভালো থাকা নিশ্চিত করতে পারলেই অন্যদের প্রতিও ইতিবাচকভাবে পাশে থাকা সম্ভব।

Social Icons