রাজধানীর ডেমরার পশ্চিম হাজীনগর এলাকার ক্যানেলপাড় সংলগ্ন ডিএনডি খাল থেকে মো. জীবন মিয়া (৩৩) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, তাকে হত্যা করে মরদেহ সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে খালে পড়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
খাল থেকে মরদেহ উদ্ধার
ডেমরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম জানান, সকাল ৮টার দিকে খবর পেয়ে পশ্চিম হাজীনগর প্রাইম কেয়ার ডায়াগনস্টিক হাসপাতাল থেকে প্রায় ৩০ গজ পশ্চিমে ক্যানেলপাড় সংলগ্ন ডিএনডি খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জীবন খালপাড়ে গিয়েছিলেন। সেখানে থাকা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে হাত লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অচেতন অবস্থায় খালে পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় এসেছিলেন জীবন
নিহতের ভায়রা ভাই মো. শান্ত জানান, জীবন মিয়া মাছের ব্যবসা করতেন। পাশাপাশি তার একটি নিজস্ব মার্কেট ছিল, যেটি ভাড়া দিয়ে তিনি সংসার চালাতেন।
তিনি জানান, বুধবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বাসা থেকে টিপু নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় এসেছিলেন জীবন। সাধারণত তিনি রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বাসায় ফিরতেন। কিন্তু সেদিন রাত ১০টার পরও বাসায় না ফেরায় তার মোবাইল ফোনে কল করা হয়। তবে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে ভোরের দিকে ডেমরা থানা থেকে পরিবারের সদস্যদের ফোন করা হলে তারা গিয়ে জীবনের মরদেহ শনাক্ত করেন।
হত্যার অভিযোগ পরিবারের
পরিবারের দাবি, জীবনের কোনো শত্রু ছিল না। তাকে কে বা কারা হত্যা করে ওই স্থানে ফেলে গেছে, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নিহতের গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের দড়িকান্দি এলাকায়। তিনি ওই এলাকার আব্দুল মজিদ মিয়ার ছেলে। মৃত্যুকালে স্ত্রী তানজিলা আক্তার ও এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
