বিদেশে চাকরি, উচ্চশিক্ষা, ইমিগ্রেশন কিংবা বিভিন্ন সরকারি কাজে অনেক সময় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়। এই সার্টিফিকেটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পুলিশি রেকর্ডে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য আছে কি না, তা যাচাই করা হয়।
বাংলাদেশে এখন অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের আবেদন করা যায়। এজন্য বাংলাদেশ পুলিশের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে আবেদন ফরম পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হয়।
এই গাইডে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করার নিয়ম, অনলাইন আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সরকারি ফি এবং সার্টিফিকেট সংগ্রহের পদ্ধতি তুলে ধরা হলো।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট কী?
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট বা PCC হলো বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া একটি সরকারি সনদ। সাধারণত বিদেশে চাকরি, পড়াশোনা, ভিসা, ইমিগ্রেশন বা অন্যান্য প্রয়োজনে কোনো ব্যক্তির পুলিশি রেকর্ড যাচাইয়ের জন্য এটি চাওয়া হয়।
বাংলাদেশের নাগরিকরা দেশে অবস্থান করে অথবা বিদেশে থেকেও নির্ধারিত নিয়মে এই সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে পারেন। বিদেশে অবস্থানরত আবেদনকারীর পক্ষে বাংলাদেশে থাকা কোনো আত্মীয় বা মনোনীত ব্যক্তিও আবেদনপ্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারেন।
pcc.police.gov.bd+1
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করার সরকারি ওয়েবসাইট
পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করতে হবে।
বাংলাদেশ পুলিশের PCC পোর্টাল
pcc.police.gov.bd
অনলাইন নিবন্ধন, আবেদন, ফি প্রদান ও আবেদনের নির্দেশনা।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আবেদন করুন
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করার নিয়ম ২০২৬
অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের আবেদন করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।
১. অনলাইন পোর্টালে নিবন্ধন করুন
প্রথমে বাংলাদেশ পুলিশের PCC ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
এরপর Registration অপশনে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। নিবন্ধনের সময় নিজের সচল মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ব্যবহার করুন।
আগে অ্যাকাউন্ট তৈরি করা থাকলে নতুন করে নিবন্ধন না করে লগইন করুন।
২. অ্যাকাউন্টে লগইন করে আবেদন শুরু করুন
নিবন্ধন সম্পন্ন হলে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।
এরপর Apply অপশনে ক্লিক করে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের আবেদন ফরম খুলুন।
বাংলাদেশ পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিজের জন্য অথবা অন্য ব্যক্তির পক্ষেও নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করা যায়।
pcc.police.gov.bd+1
৩. ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন
আবেদন ফরমের প্রথম অংশে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে।
সাধারণত প্রয়োজন হয়:
-
আবেদনকারীর পূর্ণ নাম
-
পাসপোর্ট নম্বর
-
জন্মতারিখ
-
জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রাসঙ্গিক পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য
-
মোবাইল নম্বর
-
ইমেইল ঠিকানা
পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে আবেদন ফরমের তথ্য মিলিয়ে লিখুন।
৪. বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা লিখুন
আবেদন ফরমের পরবর্তী অংশে বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা দিতে হবে।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের ক্ষেত্রে ঠিকানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানা পাসপোর্টে উল্লেখিত স্থায়ী অথবা জরুরি ঠিকানার সংশ্লিষ্ট জেলা বা মহানগর পুলিশের আওতাভুক্ত হতে হবে।
আবেদনকারীর দেওয়া বর্তমান ঠিকানা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পুলিশ ইউনিটে যাচাই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
pcc.police.gov.bd+1
৫. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করুন
আবেদন ফরমে চাওয়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি আপলোড করুন।
সাধারণত প্রয়োজন হতে পারে:
-
বৈধ পাসপোর্টের তথ্যসংবলিত পাতার স্ক্যান কপি
-
পাসপোর্টের ঠিকানাসংক্রান্ত তথ্য
-
প্রয়োজন অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন
-
বিদেশে অবস্থান করলে দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সত্যায়িত পাসপোর্ট কপি
-
অন্যের মাধ্যমে আবেদন করলে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র
পাসপোর্টে ঠিকানা উল্লেখ না থাকলে ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন বা স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সনদ লাগতে পারে। পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করুন।
Bangladesh Police+1
৬. আবেদন জমা দেওয়ার আগে তথ্য যাচাই করুন
আবেদন সাবমিট করার আগে সব তথ্য ভালোভাবে পরীক্ষা করুন।
বিশেষ করে:
-
পাসপোর্ট নম্বর
-
আবেদনকারীর নাম
-
জন্মতারিখ
-
বর্তমান ঠিকানা
-
স্থায়ী ঠিকানা
-
আপলোড করা কাগজপত্র
বাংলাদেশ পুলিশের অনলাইন নির্দেশনা অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদন সম্পাদনার সুযোগ থাকে না। তাই সব তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই Submit করুন।
pcc.police.gov.bd
৭. নির্ধারিত ফি পরিশোধ করুন
বাংলাদেশ পুলিশের অনলাইন PCC পোর্টালে বর্তমানে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের সরকারি ফি ১,৫০০ টাকা।
নির্ধারিত ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে অথবা পোর্টালে অনুমোদিত অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতিতে ফি জমা দেওয়া যায়। ট্রেজারি চালানের কোড:
1-7301-0001-2681
অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সার্ভিস চার্জ যুক্ত হতে পারে।
pcc.police.gov.bd+1
৮. পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য অপেক্ষা করুন
আবেদন ও ফি জমা সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ইউনিট আবেদনকারীর তথ্য ও ঠিকানা যাচাই করবে।
প্রয়োজনে আবেদনকারীকে অতিরিক্ত কাগজপত্র দিতে বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হতে পারে।
৯. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সংগ্রহ করুন
যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলে আবেদন অনুমোদন ও সার্টিফিকেট সংগ্রহের বিষয়ে অনলাইন পোর্টালের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
আবেদনের সময় দেওয়া তথ্য এবং পোর্টালে প্রদর্শিত সংগ্রহের নির্দেশনা অনুযায়ী সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?
| প্রয়োজনীয় কাগজপত্র | বিবরণ |
|---|---|
| পাসপোর্ট | বৈধ পাসপোর্টের তথ্যসংবলিত পাতা |
| জাতীয় পরিচয়পত্র | প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণ |
| জন্ম নিবন্ধন | প্রয়োজন হলে ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে |
| ওয়ার্ড কাউন্সিলর সনদ | পাসপোর্টে ঠিকানা না থাকলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে |
| সত্যায়িত কপি | পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী |
| অনুমতিপত্র | অন্যের মাধ্যমে আবেদন করলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে |
সব আবেদনকারীর জন্য সব কাগজপত্র প্রয়োজন হয় না। আবেদনকারীর অবস্থান ও পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী নথির প্রয়োজনীয়তা নির্ধারিত হয়।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করতে কত টাকা লাগে?
বাংলাদেশ পুলিশের অনলাইন PCC পোর্টালে বর্তমানে প্রদর্শিত ফি ১,৫০০ টাকা। ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে অথবা অনুমোদিত অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতিতে এই অর্থ পরিশোধ করা যায়। অনলাইন পেমেন্টে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।
pcc.police.gov.bd+1
বিদেশে বসে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের আবেদন করবেন যেভাবে
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকরাও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন।
সাধারণত তাঁদের ক্ষেত্রে:
-
বাংলাদেশ পুলিশের PCC পোর্টালে অনলাইন আবেদন করতে হবে।
-
প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশ দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পাসপোর্টের কপি সত্যায়িত করতে হবে।
-
বাংলাদেশে কোনো আত্মীয় বা মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
-
বিদেশে থাকা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র ও অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে।
বিদেশে অবস্থানরত আবেদনকারীদের জন্য সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।
kathmandu.mofa.gov.bd+1
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে কত দিন লাগে?
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে কত দিন লাগবে, তা আবেদন যাচাই, ঠিকানা, সংশ্লিষ্ট পুলিশ ইউনিটের কার্যক্রম এবং অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে।
বাংলাদেশ পুলিশের নাগরিক সনদে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য ৩ থেকে ৭ দিনের সেবা-সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে। তবে এটি সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে নিশ্চিত ডেলিভারি সময় নয়।
Bangladesh Police
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আবেদনসংক্রান্ত সমস্যা হলে যোগাযোগ করবেন কোথায়?
অনলাইনে আবেদন করতে সমস্যা হলে বাংলাদেশ পুলিশের PCC হেল্পডেস্কে যোগাযোগ করতে পারেন।
-
ফোন: 01320001824
-
ফোন: 01320001825
-
ইমেইল: help.pcc@police.gov.bd
-
সেবা সময়: রোববার থেকে বৃহস্পতিবার, সরকারি ছুটি ছাড়া, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা।
pcc.police.gov.bd
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
১. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স কি অনলাইনে করা যায়?
হ্যাঁ। বাংলাদেশ পুলিশের নির্ধারিত PCC পোর্টালে নিবন্ধন করে অনলাইনে আবেদন করা যায়।
২. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করতে কি পাসপোর্ট লাগে?
হ্যাঁ। সাধারণ আবেদনকারীর বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে। অনলাইন পোর্টালের নির্দেশনায় কমপক্ষে তিন মাস মেয়াদ থাকার শর্ত উল্লেখ রয়েছে।
pcc.police.gov.bd
৩. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করতে কত টাকা লাগে?
বর্তমান অনলাইন PCC পোর্টালে প্রদর্শিত সরকারি ফি ১,৫০০ টাকা। পেমেন্টের আগে পোর্টালে সর্বশেষ ফি যাচাই করুন।
৪. বিদেশে থেকেও কি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করা যায়?
হ্যাঁ। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকরা অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী দূতাবাসের সত্যায়ন ও প্রতিনিধির সহায়তা লাগতে পারে।
৫. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স কত দিনে পাওয়া যায়?
বাংলাদেশ পুলিশের নাগরিক সনদে ৩ থেকে ৭ দিনের সময় উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রকৃত সময় যাচাই কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করতে পারে।
৬. পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের আবেদন জমা দেওয়ার পর তথ্য পরিবর্তন করা যাবে?
অনলাইন পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদন সম্পাদনা করা যায় না। তাই সাবমিট করার আগে সব তথ্য যাচাই করুন।
শেষ কথা
বিদেশে চাকরি, পড়াশোনা বা ইমিগ্রেশনের জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ পুলিশের সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার আগে পাসপোর্ট, ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন।
ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করলে যাচাই প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে। তাই আবেদন সাবমিট করার আগে সব তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নিন।








