GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / বিশ্ববাজারে তেলের দামে পতন, ব্যারেলপ্রতি কত হলো?

বিশ্ববাজারে তেলের দামে পতন, ব্যারেলপ্রতি কত হলো?

বিশ্ববাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সোমবার (২৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। তবে সৌদি আরবে হুথিদের হামলার কারণে তেলের সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩২ মিনিটে ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার ১৪ সেন্ট বা ২ দশমিক ০৭ শতাংশ কমে ১০১ ডলার ১৩ সেন্টে নেমে আসে।

একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার ১২ সেন্ট বা ১ দশমিক ৮২ শতাংশ কমে ১১৪ ডলার ৬০ সেন্টে দাঁড়ায়।

ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমল কেন?

গত সপ্তাহের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। সৌদি আরবে হুথিদের হামলার পর সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর প্রভাবে শুক্রবার তেলের দাম প্রায় ৩ ডলার বেড়ে যায়।

সপ্তাহজুড়ে দাম বাড়ার পর সোমবার বাজারে দরপতন দেখা গেলেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সরবরাহের ঝুঁকি এখনো জ্বালানি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আগের সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম মোট ৬ শতাংশ বেড়েছিল। অন্যদিকে, ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছিল ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ

সপ্তাহান্তেও সৌদি আরবে হামলার ঘটনা অব্যাহত ছিল। শনিবার দেশটির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করে হুথিরা।

রোববার সৌদি আরব জানায়, তারা আরও কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। এর আগে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশটির প্রধান বিমানবন্দরে রোববার আংশিক কার্যক্রমও শুরু হয়।

তবে ওই স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। ফলে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে তেল উৎপাদন, পরিবহন কিংবা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে সোমবারের দরপতনের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

সিঙ্গাপুরে তেল মজুতের পরিকল্পনা সৌদি আরবের

আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে সিঙ্গাপুরে অপরিশোধিত তেল মজুত করার পরিকল্পনা করেছে সৌদি আরব।

সোমবার দুই দেশের জ্বালানিমন্ত্রীরা এ তথ্য জানান। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের অবস্থান ও মজুতব্যবস্থা এ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বাজারে কী পরিমাণ প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ের অনুমোদন

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, লুইজিয়ানার একটি তেল শোধনাগারে সরবরাহ বিঘ্নের প্রভাব মোকাবিলায় দেশটির কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে ৪ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো সরবরাহসংক্রান্ত বিঘ্নের প্রভাব মোকাবিলা করা। তবে এই পরিমাণ তেল ছাড় আন্তর্জাতিক বাজারের মোট দামের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

তেলের বাজারে সামনে কী হতে পারে?

সোমবার ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমলেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সৌদি আরবের তেল স্থাপনার ঝুঁকি এবং সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে।

সৌদি আরবে হামলা অব্যাহত থাকলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কৌশলগত মজুত ব্যবহারের মতো পদক্ষেপ বাজারের ওপর চাপ মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে, গত সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির পর সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। তবে এক দিনের দরপতনকে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যপ্রবণতার পরিবর্তন হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আগামী দিনের দাম নির্ভর করবে সরবরাহ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বাজারের অন্যান্য উপাদানের ওপর।

সূত্র: বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য।

Social Icons