GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান / তথ্যপ্রযুক্তি / ‘মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শ্রম চুরি’ করছে ওপেনএআই : মাইক্রোসফট নির্বাহী

‘মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শ্রম চুরি’ করছে ওপেনএআই : মাইক্রোসফট নির্বাহী

এআই প্রযুক্তিকে আরও শক্তিশালী করতে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তবে সেই তথ্যের বড় অংশ যদি কপিরাইট সুরক্ষিত সংবাদ ও অন্যান্য কনটেন্ট হয় এবং তা ব্যবহারের আগে অনুমতি বা আর্থিক চুক্তি না করা হয়, তাহলে এর প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত আদালতের নথিতে মাইক্রোসফট ও ওপেনএআইয়ের অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। নথিতে মাইক্রোসফটের ফলিত বিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক ব্রেন্ট হেখট এআই কোম্পানিগুলোর বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহকে ‘মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শ্রম চুরি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলে উঠে এসেছে। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, এ ধরনের প্রক্রিয়া সংবাদমাধ্যম ও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

পেওয়াল-সুরক্ষিত কনটেন্ট নিয়েও প্রশ্ন

২০২৩ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস ওপেনএআই ও মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে কপিরাইট মামলা করে। মামলার অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে কিছু অভ্যন্তরীণ নথি প্রকাশ করা হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের অভিযোগ, এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য সংবাদ প্রতিবেদনসহ বিপুল পরিমাণ কপিরাইট সুরক্ষিত কনটেন্ট অনুমতি বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ ছাড়াই সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রকাশিত নথিতে পেওয়াল-সুরক্ষিত কনটেন্টে প্রবেশ এবং প্রশিক্ষণ ডেটাসেট তৈরির প্রক্রিয়া নিয়েও অভ্যন্তরীণ আলোচনার তথ্য উঠে এসেছে। কিছু কনটেন্ট থেকে কপিরাইট-সংক্রান্ত নোটিশ সরিয়ে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব নথিতে থাকা মন্তব্যকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সংবাদমাধ্যমের আয় নিয়ে উদ্বেগ

এআইয়ের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সরাসরি কোনো সংবাদ বা তথ্য পেয়ে গেলে মূল সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রতিবেদন পড়ার প্রয়োজন কমে যেতে পারে। এতে সংবাদমাধ্যমের পাঠক, ওয়েব ট্রাফিক ও বিজ্ঞাপন আয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ওপেনএআইয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যেও এ ধরনের উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। এআইয়ের উত্তরে সংবাদমাধ্যমের লিংক দেওয়া হলেও ব্যবহারকারীরা সেসব লিংকে ক্লিক করবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।

মাইক্রোসফটের অভ্যন্তরীণ নথিতেও আশঙ্কা করা হয়, এআই যদি মানুষের তৈরি কনটেন্টের ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, অথচ সেই কনটেন্ট তৈরির প্রতিষ্ঠানগুলো আয় হারাতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে নতুন কনটেন্ট তৈরির পরিমাণ কমে যেতে পারে।

মাইক্রোসফটের বক্তব্য

অভ্যন্তরীণ নথিতে থাকা মন্তব্যগুলোকে কোম্পানির আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করছে না মাইক্রোসফট। কোম্পানিটির দাবি, এআই প্রযুক্তিতে কপিরাইট সুরক্ষিত কনটেন্টের ব্যবহার আইনসম্মত এবং তাদের কোপাইলট সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকতার বিকল্প নয়।

তবে ঘটনাটি এআই প্রযুক্তি ও কনটেন্ট নির্মাতাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের কপিরাইট বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে।

আইনি লড়াইয়ের ফল গুরুত্বপূর্ণ

এআই মডেল প্রশিক্ষণে সংবাদ, বই, ছবি ও অন্যান্য কপিরাইট সুরক্ষিত কনটেন্ট কতটা ব্যবহার করা যাবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক আইনি লড়াই চলছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের মামলার ফল ভবিষ্যতে এআই কোম্পানি ও সংবাদমাধ্যমের মধ্যে কনটেন্ট ব্যবহারের সম্পর্ক, লাইসেন্সিং এবং সম্ভাব্য আর্থিক চুক্তির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমসের মামলার আদালত নথি, দ্য ভার্জ ও টেকরাডার।

Social Icons