GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সারাদেশ / রুমিন ফারহানার সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, সেই ওসিকে আইনজীবী সমিতির নোটিশ

রুমিন ফারহানার সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, সেই ওসিকে আইনজীবী সমিতির নোটিশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। পুলিশের চাকরিতে থাকা অবস্থায় আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ বহাল রাখার অভিযোগে তাকে এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে আলোচনায় আসেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নথি অনুযায়ী, ২০০২ সাল থেকে মনজুর কাদের ভূঁইয়া সমিতির সদস্য। তবে পুলিশে যোগ দেওয়ার আগেই সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন করেছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন জানান, পুলিশের চাকরিতে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ সক্রিয় রাখা সমিতির বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে ওসিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অন্য পেশায় যুক্ত থেকেও আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ বহাল রেখেছেন, এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন করেছিলেন ওসি

নোটিশের বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, পুলিশের চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগেই ২০০৫ সালের ৬ মে বার কাউন্সিলের কাছে সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন করেছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, একই ধরনের নোটিশ আরও অনেককে পাঠানো হয়েছে।

ওসি জানান, নিয়ম মেনেই তিনি সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন করেছিলেন। তাই তাঁর সদস্যপদ বাতিলের সুযোগ নেই বলে মনে করেন তিনি। চাকরি শেষে আবার আইন পেশায় ফেরার ইচ্ছাও রয়েছে তাঁর।

সমিতির নোটিশের জবাবে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেবেন বলেও জানিয়েছেন মনজুর কাদের ভূঁইয়া।

সদস্যপদ যাচাইয়ে আইনজীবী সমিতির উদ্যোগ

সমিতি সূত্রে জানা গেছে, আইন পেশায় নিয়মিত যুক্ত না থেকেও সদস্যপদ ধরে রাখা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে সম্প্রতি উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি।

এ লক্ষ্যে গত ২৫ জুন একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে সরকারি, আধাসরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত সদস্যদের ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে স্বেচ্ছায় সদস্যপদ স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত সদস্যদের বর্তমান অবস্থান যাচাই করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সরাইল থানার ওসিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবে তাঁর সদস্যপদ স্থগিতের আবেদনের বিষয়ে সমিতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।

রুমিন ফারহানার সঙ্গে কী নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল?

এর আগে গত ২২ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সঙ্গে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার বাগ্‌বিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, শারদীয় দুর্গাপূজার সময় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে নিরাপত্তা চেয়েছিলেন রুমিন ফারহানা। তবে ওসি তাঁকে নিরাপত্তা দেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া ওসির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে থানায় যান সংসদ সদস্য। রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি ওসির কক্ষে অবস্থান করেন।

সেখানে রুমিন ফারহানার সঙ্গে আসা এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ওসি তাঁর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। তবে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন মনজুর কাদের ভূঁইয়া। তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তিকে শিখিয়ে থানায় নিয়ে এসেছেন রুমিন ফারহানা।

কথোপকথনের একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি।’

জবাবে ওসি বলেন, ‘আপনি তো আওয়ামী লীগের লোকজনকে সবসময় শেল্টার দেন। তাদের ধরতে গেলে নিষেধ করেন। আমার কাছে লিস্ট আছে। আপনি রাজ্জিকে ধরতে নিষেধ করেছেন।’

এর উত্তরে রুমিন ফারহানা বলেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাজ্জি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত।

Social Icons