সিরাজগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর নেতা আব্দুস সবুর সেখের ওপর হামলার অভিযোগে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে আহত নেতার স্ত্রী শোহর বানু সদর থানায় মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান।
১০ জনের নাম উল্লেখ
মামলায় সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম সরকারসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে আসামিদের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আব্দুস সবুর সেখ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের জামায়াতের সাবেক আমির। মামলার এজাহার অনুযায়ী, শনিবার জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের গাড়িবহর সয়দাবাদ এলাকা অতিক্রম করার সময় তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের স্বাগত জানান।
হামলার অভিযোগ
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, লংমার্চের গাড়িবহর চলে যাওয়ার পর স্থানীয় একটি মসজিদে জোহরের নামাজ শেষে বের হলে আব্দুস সবুরকে একা পেয়ে হামলা করা হয়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে ও মারধর করে গুরুতর আহত করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আহত আব্দুস সবুরকে প্রথমে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরের তিনটি স্থানে জখম হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএনপি নেতার ভিন্ন বক্তব্য
তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম সরকার ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তার দাবি, লংমার্চের সময় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে জামায়াত নেতাকর্মীদের তর্কবিতর্ক হয়েছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকজন আব্দুস সবুরকে কিল-ঘুষি দেন।
রফিকুল ইসলাম সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, কাঠের চেলা দিয়ে আঘাতের কারণে তার শরীর থেকে রক্ত বের হয়ে থাকতে পারে। তবে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ তিনি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন।
এখনো গ্রেপ্তার হয়নি কেউ
সদর থানার ওসি রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে হামলার ধরন ও দায়ীদের বিষয়ে অভিযোগ এবং পাল্টা বক্তব্য রয়েছে। তাই মামলার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যকে পৃথকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
