ছোট শিশুর জেদ ও রাগ অনেক সময় বাবা-মায়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে শিশু রাগের সময় অন্যকে আঘাত করলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে দোয়া ও আমলের পাশাপাশি শিশুর পারিপার্শ্বিক পরিবেশের দিকেও নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এক প্রশ্নের উত্তরে ঢাকার বিমানবন্দরের জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহের শিশুর রাগ ও জেদ কমানোর জন্য কয়েকটি আমলের কথা উল্লেখ করেছেন।
আল্লাহর দুটি নাম পাঠ
শিশুর মাথায় হাত রেখে অথবা শিশু ঘুমানোর সময় ‘ইয়া লতীফু’ (يا لطيف) এবং ‘ইয়া হালীমু’ (يا حليم) ১০০ বার পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূরা আলে ইমরানের আয়াত
সূরা আলে ইমরানের ১৩৪ নম্বর আয়াতের অংশ—
وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ
এর অর্থ: “যারা নিজেদের রাগ সংবরণ করে এবং মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে।”
উল্লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী, এই অংশটি বেশি বেশি পড়ে শিশুর বুকে ও পানিতে ফুঁ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সূরা আম্বিয়ার আয়াত
ইবরাহিম (আ.)-কে আগুনে নিক্ষেপ করার সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল—
يَا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ
অর্থ: “হে আগুন! তুমি শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।”
সূরা আম্বিয়ার ৬৯ নম্বর আয়াতের এই অংশটি শিশুর অতিরিক্ত রাগের সময় পড়ে ফুঁ দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
দরুদ ও কোরআনের আয়াত
এ ছাড়া তিনবার দরুদ শরীফ এবং তিনবার وَوَجَدَكَ ضَالًّا فَهَدَىٰ পড়ে পানিতে দম করে শিশুকে পান করানোর কথা বলা হয়েছে।
বদনজরের প্রসঙ্গ
শিশু অস্বাভাবিক জোরে আঘাত করলে সেটিকে বদনজরের কারণেও হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস তিনবার করে পড়ে শিশুর শরীরে ফুঁ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মোবাইল ও কার্টুনের বিষয়েও সতর্কতা
শিশু মোবাইল বা টেলিভিশনে কী ধরনের কার্টুন দেখছে, সেদিকেও নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে হিংস্রতা বা দ্রুত পরিবর্তনশীল দৃশ্যযুক্ত কার্টুন শিশুর আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাশাপাশি শিশুর সামনে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া বা চিৎকার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ অশান্ত পারিবারিক পরিবেশ শিশুর আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ওই পরামর্শে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোট: ওপরের আমল ও পরামর্শগুলো প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ধর্মীয় পরামর্শ অনুযায়ী উপস্থাপন করা হয়েছে। এগুলোর কার্যকারিতা সম্পর্কে আলাদা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।







