ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সব সংসদীয় কমিটি গঠন শেষ হয়েছে। ৫০টি সংসদীয় কমিটির মধ্যে বিরোধী দলকে মাত্র একটি কমিটির সভাপতির পদ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার চারটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত ৩৯টি এবং বিষয়ভিত্তিক ১১টি কমিটি গঠনের কাজ শেষ হয়।
গত কয়েকটি সংসদের ধারাবাহিকতায় সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি পদটি বিরোধী দলের একজন সদস্যকে দেওয়া হয়েছে। তবে জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ সংখ্যানুপাতে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল বিরোধী দল।
বিরোধী দলের ২৬ শতাংশ প্রতিনিধিত্বের দাবি
বিরোধী দল সংসদীয় কমিটিতে তাদের সংখ্যানুপাতে ২৬ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব দাবি করে আসছে। জবাবে সরকারি দল সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়।
তবে বিরোধী দল ওই আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় তাদের কোনো মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে একাধিক কমিটিতে রাষ্ট্রীয় সুবিধাভোগী যেমন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও হুইপদের সভাপতি করায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ উষ্মা প্রকাশ করেছেন। ভবিষ্যতে কমিটি পুনর্গঠনের সময় বিষয়টি বিবেচনার জন্য তিনি রুলিং দিয়েছেন।
শেষ চারটি কমিটির সভাপতি যারা
বৃহস্পতিবার সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শেষ দিনে প্রতিরক্ষা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, জনপ্রশাসন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিনকে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সরকারদলীয় হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুকে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছে শরীয়তপুর-১ আসনের সাঈদ আহমেদকে।
আর সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিকে।
এ ছাড়া এদিন ছয়টি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। চিফ হুইপ পৃথকভাবে কমিটি গঠনের প্রস্তাব করলে পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
কমিটিতে সদস্য বণ্টন নিয়ে বিরোধীদের অসন্তোষ
কমিটি গঠনের পর সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্য বণ্টন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ও হুইপ রফিকুল ইসলাম খান।
তাদের অভিযোগ, বিরোধী দল আগে যে তালিকা দিয়েছিল, সেই অনুযায়ী সদস্যদের বিভিন্ন কমিটিতে রাখা হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কমিটিতে দুজন করে সদস্য দেওয়া হলেও তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে চারজন পর্যন্ত সদস্য রাখা হয়েছে।
কোনো মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদও বিরোধী দলকে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
সদস্য পরিবর্তন নিয়ে সংসদে প্রশ্ন
আলোচনার সূত্রপাত করেন রংপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজী।
তিনি বলেন, কমিটি পুনর্গঠনের সময় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বারবার বলেছেন, সদস্যদের কোনো পরিবর্তন হয়নি। অথচ আগে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে থাকা তাকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি কোনো সদস্যের নাম পরিবর্তন না হয়, তাহলে আমি তিস্তা পার থেকে কীভাবে পাহাড়ে গেলাম?”
জবাবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বিষয়টি তিনি পরীক্ষা করে দেখবেন। যদি এটি ‘প্রিন্টিং মিসটেক’ হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।
বিরোধী দলের ২৬ শতাংশ প্রতিনিধিত্বের দাবি
এরপর বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম নয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতেও সদস্য পরিবর্তন করা হয়েছে।
তার অভিযোগ, বিরোধী দল আগে যে তালিকা দিয়েছিল, সেই অনুযায়ী সব সদস্যকে কমিটিতে রাখা হয়নি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ১০ সদস্যের প্রতিটি কমিটিতে বিরোধী দল প্রথমে তিনজন করে সদস্য চেয়েছিল। পরে সরকারি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মোট সদস্যের ২৬ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব বিরোধী দল পাবে।
সে অনুযায়ী কিছু কমিটিতে তিনজন এবং কিছু কমিটিতে দুজন করে বিরোধী দলের সদস্য থাকার কথা ছিল। কিন্তু তাদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী বিষয়টি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
তিনি বলেন, স্থায়ী কমিটিগুলো সংসদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কমিটি। এসব কমিটির মাধ্যমে বিরোধী দল জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায়। কমিটিগুলো ‘ইচ্ছামতো’ গঠন করা হলে বিরোধী দলের পক্ষে কার্যকরভাবে অংশ নেওয়া কঠিন হবে।






