সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনায় প্রাথমিক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে প্রসিকিউশন। এ মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (২৭ আগস্ট) মামলার শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল গুমের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৭ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
এর আগে গত ৯ আগস্ট সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ অনুযায়ী বুধবার তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন দাবি করে, সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনায় জিয়াউল আহসানের প্রাথমিক সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এ দাবির ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি শেষে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখান ট্রাইব্যুনাল।
মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে আগামী ২৭ অক্টোবরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই দিনে মামলার পরবর্তী শুনানিও অনুষ্ঠিত হবে।
চলতি বছরের ১৯ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে গুমের ঘটনায় অভিযোগ দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। অভিযোগে জিয়াউল আহসানের পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং পুলিশের বিশেষ শাখার সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।
২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছিলেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ। সে সময় বিএনপির পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে তুলে নিয়ে গেছেন।
তখন সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই মাস পর, ২০১৫ সালের ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ।
তৎকালীন সময়ে ভারতের পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, শিলংয়ে সালাহউদ্দিন আহমদকে আটক করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এর পরদিন ৬ আগস্ট ভারত সালাহউদ্দিন আহমদকে দেশে ফেরার জন্য ট্রাভেল পাস বা ভ্রমণ অনুমোদন দেয়। একই বছরের ১১ আগস্ট তিনি বাংলাদেশে ফেরেন।









